ময়মনসিংহের ত্রিশালের খিরো নদের ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার রিনা খাতুন নামে গৃহবধূর ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। আজ শুক্রবার তার লাশ পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে রিনাকে খুন করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যেই খিরো নদে তা ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মুরাদ মোল্লা বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, ৭ বছর আগে তার মেয়ে রিনা খাতুন ঢাকায় এসে একটি গার্মেন্টসে কাজ করছিল।
চাকরিরত অবস্থায় কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার সেকান্দর নগর গ্রামের মৃত সবুজ হাওলাদারের ছেলে মো. রুবেলের (৩১) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের পর প্রায় ৪ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।
বিবাহের তিন বছর পর স্ত্রী রিনা জানতে পারে তার স্বামী রুবেলের আগের আরও একজন স্ত্রী রয়েছে। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় ৮ মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পরে স্বামী রুবেল মিয়া বিভিন্ন সময় খুন, জখমসহ নানা ধরনের হুমকি দিতেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বুধবার বিকেলে রিনাকে তার সাবেক স্বামী রুবেল চলমান বিচ্ছেদের বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে বাসা থেকে নিয়ে আসে। এরপর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেলেরঘাট খিরো নদে ফেলে রেখে যায় সে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ত্রিশাল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা রিনা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ত্রিশাল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক জানান, থানা পুলিশ ও পিবিআইর মাধ্যমে লাশের সংরক্ষিত ফিঙ্গার প্রিন্ট তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে রিনার লাশ শনাক্ত করে তার পরিবারকে সংবাদ দেওয়া হয়। তার ঠোঁটের উপরে ও নিচে জখম ছিল।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে খিরো নদের ব্রিজের নিচ থেকে রিনার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে আজ শুক্রবার তার পিতার কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বার্তাবাজার/কেএ