১৭, অক্টোবর, ২০১৮, বুধবার | | ৬ সফর ১৪৪০

নোয়াখালীতে টার্কি মুরগী পালনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

আপডেট: মে ১২, ২০১৮

নোয়াখালীতে টার্কি মুরগী  পালনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

মোঃ ওয়ালিদ সাকিব, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃদেশে ক্রমবর্ধমান মাংসের চাহিদা মিটাতে পোল্ট্রি শিল্পের পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টার্কি মুরগীর পালন। টার্কি পালনে খরচ কম হওয়ায় এবং অল্প সময়ে অধিক লাভের পাশাপাশি টার্কি বিদেশেও রপ্তানি করা যায়।আর তাই পোল্ট্রি শিল্পের বিকল্প হিসেবে টার্কি শিল্পের দিকেই ঝুঁকছেন নোয়াখালী অঞ্চলের খামারীরা।

তবে টার্কি পালনে সরকারি ভাবে কোন সহযোগিতা না থাকা ও মাঠ পর্যায়ে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণেই বাঁধার মুখে পড়ছে সম্ভাবনাময় এ নতুন শিল্পটি। খামারে মুরগি পালন করতে উৎপাদন খরছ মেটাতেই অনেকে লোকশানে পড়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই খামারের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন নোয়াখালী অঞ্চলের অনেক খামারী। তবে টার্কি মুরগীর পালন নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে এ অঞ্চলের মানুষের মনে। গেল কয়েক বছর ধরে টার্কি মুরগী পালন করে নতুন করে লাভের মুখ দেখছেন খামারীরা।

বিগত কয়েক বছর ধরে সেনবাগে টার্কি পাখি পালন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সৌদি প্রবাসী কামাল হোসেন ভূঁইয়া (৪০)। ২০১৬ সালে জীবিকার সন্ধানে আমেরিকা গিয়ে ওয়াশিংটনে দেখতে পান টার্কি পাখির খামার। সেখানে থেকে তিনি টার্কি পাখি পতি-পালনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।এরপর ২০১৭ সালে তিনি ভারতের মাদ্রাজ থেকে দুই লাখ টাকা দিয়ে ২০০ পিস (টম ও হ্যান্ড) জাতের পুরুষ ও নারী টার্কি পাখি সংগ্রহ করে সেনবাগ উপজেলার ৫নং অজুর্নতলা ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর গ্রামে খামার গড়ে তোলেন।

বর্তমানে তার টার্কি খামারে ২ হাজার পিস টার্কি পাখি রয়েছে। ওই টার্কি খামার থেকে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২শ’ পিস ডিম পাওয়া যাচ্ছে। ওই ডিম থেকে তিনি ইন্টিভিটর মেশিনে সাহায্যে বাচ্ছা উৎপাদন করছেন। একই সঙ্গে বাচ্ছা ও বয়স্ক টার্কি পাখি বিক্রি করে বেশ আয়-রোজগার করে তিনি স্বাবলম্বী হয়েছে তিনি।

তার খামার থেকে বাচ্ছা নিয়ে ইতিমধ্যে ১০/১২টি খামার গড়ে তুলেছেন সেনবাগসহ আশপাশের শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবক ও যুব মহিলারা।

সরেজমিনে টার্কি খামারী পরিদর্শনে গেলে সৌদি প্রবাসী কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানায়, তিনি প্রতিটি ১৫ থেকে ৩০ দিনের বাচ্ছা বিক্রি করেন ৭ শত টাকা ও ২ মাসের প্রতিটি বাচ্ছা বিক্রি করেন ২৫শ টাকা। অপরদিকে মাংসের প্রতি কেজি টার্কি তিনি বিক্রি করেন ৬শ’ থেকে ৭শত টাকায়। প্রতিটি টার্কি ৮ থেকে ২৮ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়।

টার্কির ক্রেতা ঢাকা ও চট্টগ্রামের অভিজাত হোটেল-রেস্তোরার মালিকগণ। ঢাকা থেকে ক্রেতারা গাড়ি নিয়ে এসে টার্কি পাখি গুলো নিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, এই পাখি গুলো প্রতিপালন একেবারে সহজ, বালু ভর্তি ফ্লোর সেডে থাকতে অভ্যস্ত। এগুলো খাদ্য হচ্ছে সবুজ ঘাস ও লতাপাতা এবং পোল্ট্রি ফিড। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক পাখি প্রতিদিন একশ গ্রাম খাদ্য খায়। এর মধ্যে সবুজ ঘাস ৮০ ভাগ। তিনি আরো জানান, গ্রামের মা-বোন ও শিক্ষিত-অর্ধ শিক্ষিত বেকার যুবকরা এই পাখি পালন করে সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারে।

যেনম একজোড়া বাচ্ছা টার্কি পাখির মূল্য ১৪ শ’ টাকা। তিন মাসে ওই বাচ্ছা পাখিটির নূন্যতম ওজন ৩ কেজি তা হলে পাখিটির মূল্য দাড়বে ৭ শ’ টাকা হারে ২১ শত টাকা। ৬ মাসে প্রতি কেজি টার্কি ৫ হাজার ৬শত টাকা। এছাড়াও প্রতিটি টার্কি ৬ মাস বয়স থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে যা টানা ৬ মাস পর্যন্ত ১৮০টি ডিম দেয়। প্রতিটি ডিমের মূল্য ২শত টাকা।

তিনি আরো জানান, টার্কি খামারিদের নিকট থেকে তিনি পাখিগুলো ক্রয় করে বিক্রির ব্যবস্থা করেন এবং ডিমগুলো বিনামূল্য ইন্টিভিটর মেশিনে ফুটিয়ে খামারিদের সরবরাহ করেন।

মাঠ পর্যায়ে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কথা অস্বীকার করে টার্কি মুরগী পালনে খামারীদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নানা রকম পরামর্শ দেওয়ার কথা জানান জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ড. মো: জাকির হোসেন।

তবে টার্কি মুরগী পালন করে দেশে মাংসের চাহিদা পূরণ ও বিদেশে রপ্তানি করে বিদেশী মুদ্রা অর্জনের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি ভাবে আরো বেশি উদ্যোগ নেয়া হবে এমতনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় খামারীদের।