ভোলায় হামলার ভিডিওচিত্র পর্যালোচনায় উঠে এসেছে বিস্তারিত ঘটনা।
স্থানীয় ছাত্রদল এবং শিবিরের নেতৃত্বে ভোলায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভিডিওচিত্র পর্যালোচনায় উঠে এসেছে হামলার বিস্তারিত। ভিডিও ফুটেজ দেখে অন্যদেরও শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আলেম-ওলামারা জানিয়েছেন, মুসুল্লিদের ভুল বুঝিয়ে উত্তেজিত করে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায় আকাশী পাঞ্জাবী পরা এক যুবক হামলায় অংশ নিয়েছেন। ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ রাকিব। তিনি বোরহানউদ্দিনের পক্ষীয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ও বোরহানউদ্দিন আবদুল জব্বার কলেজের ছাত্র। ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন রাকিব।
অপর একটি ভিডিওতে সাদা গেঞ্জি পরিহিত এক যুবককে হামলার নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। গেঞ্জি পরিহিত ওই ব্যক্তির নাম আলী আশরাফ সবুজ। তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি। হামলার ভিডিওতে শোনা যায়, গুলি করে মারতে তার সহযোগীদের নির্দেশ দিচ্ছেন সবুজ।
হামলায় নীল পাঞ্জাবী পরা এক যুবককে পুলিশের ওপর হামলা চালাতে দেখা যায়। নীল পাঞ্জাবী পরা ওই যুবক বোরহানউদ্দিন ৪ নম্বর পক্ষীয়া ইউনিয়নের মোঃ মিজান। তিনিও, বিএনপি সমর্থিত পরিবারের সন্তান।
আরেকটি ভিডিওতে গেঞ্জি ও মাথায় টুপি পরা এক যুবককে দেখা হামলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে। তিনি বোরহানউদ্দিন ৭ নম্বর কুতুবা ইউনিয়নের মোঃ আরিফ। তিনি বিএনপির কর্মী ও স্থানীয় মার্কেট হাওলাদার প্লাজায় দর্জির কাজ করেন। পুলিশের ওপর হামলাকারীদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন।
হামলার আগের দিন, স্থানীয় আলেম-ওলামারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরদিন সকালে ছোট সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। প্রশাসনের লোকজন, আলেম-ওলামা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে সবাইকে বুঝিয়ে শান্ত করেন। কিন্তু, পরদিন আলেম-ওলামারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তারা জানান, হামলা ঘটিয়েছে উচ্ছৃঙ্খল কিছু যুবক।
বোরহানউদ্দিনের ঈদগাঁ মসজিদের ইমাম মাওলানা আহাম্মেদ জানান, সমাবেশ স্থগিত করায় স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে। আর, বোরহানউদ্দিন বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য মসজিদে বৈঠকে বসলে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন আপনাদের এই সমাবেশ স্থগিত করেন না হইলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে।
বোরহানউদ্দিন আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আহাম্মেদুল্লাহ আনসারী হামলার আগের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষ করে আমরা যখন মসজিদ থেকে বের হয়ে যাই ঠিক তখনই বাইরে থেকে হঠাৎ করে একটা মিছিল আসে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ বিষয়ে, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা এ হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ভোলায় ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে কটূক্তি এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিক্ষোভ করে স্থানীয় জনতা। এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলা চালানোর পাশাপাশি ঘরবাড়িতে আগুন দেয়া হয়। এমনকি, মন্দিরও ভাঙচুর করা হয় সেদিন।
প্রসঙ্গত, গেল শুক্রবার বিকেলে, বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শুভর ছবিসংবলিত ফেইসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে গালাগাল করা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে কয়েকজন বন্ধুর ম্যাসেঞ্জারে মেসেজ পাঠানো হয়। পরে, এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা প্রতিবাদ শুরু করেন। এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে মুসল্লিরা জড়ো হয়ে সমাবেশের ডাক দেয়। পরে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন থানায় শুভর আইডি হ্যাক হয়েছে উল্লেখ করে জিডি করা হয়। এ জন্য শুভকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ।
পরবর্তীতে, শুভর বিচারের দাবিতে ঈদগাহ মাঠে তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয়রা। তবে, পুলিশ এ সমাবেশের অনুমতি না দিলেও সকাল থেকেই লোকজন ঈদগাহ মাঠে লোকজন জড়ো হতে থাকে। মিছিল করতে না পেরে সেখানেই তারা অবস্থান করে বিক্ষোভ শুরু করে। এখান থেকে উত্তেজনার এক পর্যায়ের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয় এং ১০ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত দেড়’শ জন আহত হয়।
বার্তাবাজার/এম.কে