ফাহিম রাজধানীর রামপুরা থানায় অবস্থিত নামকরা একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। একদিন ছুটি শেষে সে স্কুলের নিচতলায় অপেক্ষা করছিল তার বাবার জন্য। বাবা আসার পর ফাহিম বলল, বাবা তাড়াতাড়ি বাসায় চলো বাথরুমে যেতে হবে। ফাহিমের বাবা বললেন, এখানে বাথরুম সেরে নাও। ফাহিম স্কুলের বাথরুমে যেতে রাজি হলো না। কারণ জিজ্ঞেস করায় সে জানাল স্কুলের বাথরুম খুবই নোংরা, যাওয়া যায় না।
ফাহিমের বাবা জানতে চাইল কখন তার বাথরুম পেয়েছে। ফাহিম বলল, ক্লাসে থাকা অবস্থায়ই তার বাথরুম পেয়েছে; কিন্তু সে যায়নি। খুব বেশি জরুরি না হলে ফাহিম ক্লাস করা অবস্থায় কখনোই বাথরুমে যায় না বলে জানায় তার বাবাকে।
বাংলাদেশে দুই কোটি ছাত্রছাত্রী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শুধু স্কুলের নোংরা টয়লেটের কারণে জাতিসঙ্ঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের তথ্যে এমনটাই বলা হয়েছে।
কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলে প্রতি ৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি টয়লেট থাকা জরুরি; কিন্তু রয়েছে প্রতি ১৮৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি টয়লেট। ন্যাশনাল হাইজিন বেজলাইন সার্ভে নামক সরকারি এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মাত্র ২৫ ভাগ স্কুলের টয়লেট পরিষ্কার পাওয়া গেছে। অনেক স্কুলে উন্নত মানের টয়লেট থাকলেও তা শিক্ষার্থীরা ব্যবহারের সুযোগ পায় না।
৮৪ ভাগ স্কুলে উন্নত টয়লেট রয়েছে; কিন্তু মাত্র ৪৫ ভাগ স্কুলে এসব টয়লেট খোলা ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য। ৩৫ ভাগ স্কুলে হাত ধোয়ার স্থানে সাবান ও পানি উভয় সুবিধা রয়েছে। সার্বিকভাবে তিন ভাগের এক ভাগ স্কুলে উন্নত টয়লেটের অন্তত ৩০ ফিট দূরত্বের মধ্যে পানি ও সাবান পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিভিন্ন ছোঁয়াচে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কেন্দ্র হলো স্কুল। আর হাত ধোয়ার ভালো ব্যবস্থার মাধ্যমে ডায়রিয়া ও শ্বাসযন্ত্রের রোগসহ অনেক রোগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
স্কুলের নোংরা টয়লেটের কারণে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ নানা ধরনের রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। নোংরা টয়লেটের কারণে শুধু শিক্ষার্থী নয় বরং বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু শিক্ষার্থী তার পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও বয়ে নিয়ে আসতে পারে। তাই স্কুলের নোংরা টয়লেটের কারণে শিক্ষার্থীর পরিবারও রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৯ ভাগ স্কুলের ক্ষেত্রে স্যানিটারি পিট টয়লেট রয়েছে, যেখানে ৩০ ভাগের ক্ষেত্রে সেপটিক ট্যাংক রয়েছে। শহরে সেপটিক ট্যাংক রয়েছে ৪৫ ভাগ টয়লেটে। স্যানিটারি পিট টয়লেটের সংখ্যা শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি অর্থাৎ শতকরা ৬২ ভাগ।
স্কুলে যে সব টয়লেট রয়েছে তার মধ্যে শতকরা মাত্র চার ভাগ উন্নত। উন্নত টয়লেটের ক্ষেত্রে শহরের স্কুলে ৬৩ ভাগ আর গ্রামের স্কুলে ৪৩ ভাগ টয়লেট শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলে উন্নত টয়লেট ব্যবহারের অধিকার প্রাথমিকের চেয়ে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা বেশি পায়। মাধ্যমিকে ৫৭ ভাগ আর প্রাথমিকে ৪২ ভাগ শিক্ষার্থী উন্নত টয়লেট ব্যবহারের অনুমতি পায়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল হাইজিন বেজলাইন সার্ভে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে আইসিডিডিআর,বি, ওয়াটার এইড ও পিএসইউয়ের সহায়তায়।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস