শীঘ্রই পর্যটন শিল্প ও পর্যটন শিল্পে জড়িতদের জন্য সুদিন আসার কথা বলেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে অবস্থিত চার তারকা বিশিষ্ট আবাসিক হোটেল পেনিনসুলায় বিভিন্ন বিমান সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়োজিত ১১তম আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, পর্যটন খাতের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রয়েছে বিশেষ মনযোগ। দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে তিনি অনেক কাজ করেছেন। যা এখন সকলের নিকট দৃশ্যমান। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় আমরা সেবা সংস্থা গুলোর সাথে আলাপ আলোচনা করে অবস্থার উন্নয়ন করেছি।
তিনি আরো বলেন, প্রাচ্যের রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি চট্টগ্রামে রয়েছে বহু দর্শনীয় স্থান। যার গুরুত্ব ও সম্ভাবনা উপলব্ধি করেই মনিটর এখানে ট্যুরিজম ফেয়ার করছে। এছাড়া এয়ারলাইন্সগুলোকে চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পকে প্রমোট করার আহবান জানিয়ে বিদেশি পর্যটকদের দর্শনীয় স্থান সমূহে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে বলেছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম চট্টগ্রাম পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব আলোচনা করেন এবং রোগীদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম হতে সিঙ্গাপুর, ব্যাংককে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার আহবান জানান।
‘বাংলাদেশ মনিটর’ সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম হলো দেশে পর্যটনের রাজধানী। তবে চট্টগ্রামকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার জন্য সরকারিভাবে যা করা দরকার তা হচ্ছে না। আমরা ১২ বছর ধরে চেষ্টা করছি বেসরকারিভাবে এ খাতকে এগিয়ে নিতে।
চট্টগ্রাম যে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বয়ংসম্পূর্ণ তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে তা শুধু দেশের মানুষরাই জানে। বিশ্বে চট্টগ্রামের সৌন্দর্য্য সম্পর্কে সকলে অবগত নয়। চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের পর্যটনকে বিশ্বে তুলে ধরতে হবে।
বিদেশি পর্যটন সাংবাদিকদের এখানে আমন্ত্রণ করে তাদের নিকট চট্টগ্রামের বিশেষত্ব তুলে ধরতে হবে। ভারত, সিঙ্গাপুরসহ যেখানে বেসরকারি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট অপারেশন করে সেখানে পর্যটনকে প্রমোট করতে হবে। শুধু আভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও চাকচিক্য দিয়ে পর্যটন খাতের যথাযথ মূল্যায়ন করা যাবেনা।
এয়ার এরাবিয়ার কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মুবিন রশীদ বলেন, এয়ার এরাবিয়া বিশ্বাস করে ইনোভেশনে। স্কাই টাইমে যাত্রীদের নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে শারজাহ ৫টি ফ্লাইট অপারেশন করছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশ ট্যুরিজমে সমৃদ্ধি অর্জন করছে।
রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার হানিফ জাকারিয়া বলেন, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ইতিমধ্যে আমাদের বেশ কয়েকটি দেশের সাথে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু রয়েছে এবং শীঘ্রই চট্টগ্রাম থেকে আরো নতুন নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পর আমরাই সর্বোচ্চ যাত্রীসেবা দিচ্ছি। আটটি অভ্যন্তরীণ ও আটটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অপারেটের মাধ্যমে ষোলটি ফ্লাইট অপারেট করছি। রোগীদের সুবিধার্থে রেখেছি চট্টগ্রাম-চেন্নাইর সরাসরি ফ্লাইট ব্যবস্থা। এছাড়া আগামী বছর থেকে চালু করছি সিলেট-চট্টগ্রাম, সিলেট-কক্সবাজার ফ্লাইট। আগামী বছর চালু হবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মেলা পেনিনসুলার ডালিয়া হলে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
বার্তাবাজার/এম.কে