চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর নিকটস্থ ফেরীঘাট সদরঘাট সংলগ্ন নদীতে পুনরোদ্যমে চলছে মাটি ও ময়লা আবর্জনা নিষ্কাশনের ড্রেজিং কার্যক্রম।
২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুর তিনটায় চট্টগ্রামবাসীর জন্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত নেভাল-টু হিসেবে অভয়মিত্র ঘাটে গেলে দেখা যায় ভিন্ন অবস্থা। চারদিকে বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে বালি ও মাটি কণা।
কিছুদূর সামনে এগিয়ে গেলে দেখা যায় বিশাল বিশাল মাটির স্তূপ। যার পাশেই রয়েছে মাটি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত এসক্যাভেটর ও মাটি বোঝাই করার জন্য ট্রাক। আরেকদিকে নদীর মাঝে চলছে মাটি উত্তোলনের ব্যস্ততা।
কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সদরঘাট হতে বালিয়ারচড় পর্যন্ত ড্রেজিং প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত রয়েছে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। ড্রেজিংয়ের কাজ করতে ও জনসাধারণের নিরাপত্তার লক্ষ্যে নেভাল-টু নামক পর্যটন কেন্দ্রের অধিকাংশ জায়গা সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সড়িয়ে দেয়া হয়েছে পর্যটকদের জন্য থাকা সকল ভ্রাম্যমাণ খাবার দোকান ও আসন ব্যবস্থা।
স্বচ্ছ সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে দৃশ্যমান নেভাল-টু’র বর্তমান চিত্র খুবই অপরিচ্ছন্ন ও ধুলোবালিযুক্ত। হাঁটাচলা থেকে শুরু করে নদীর সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য নেই কোন সুব্যবস্থা ও অনুকূল পরিবেশ। এরপরও না জেনে আসছেন অনেক নদী প্রিয় দেশি-বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থী।
নেদারল্যান্ড হতে আগত চারজন যুবতী ও তিনজন পুরুষের একটি পর্যটক দলের সাথে কথা বললে তাঁরা বার্তাবাজারকে জানান, ‘আমরা প্রায় সময়ই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করি। এবার এসেছি বাংলাদেশে। এসে এখানকার নেভাল-টু নামক অত্র পর্যটন কেন্দ্রের কথা জানলাম।
শুনেছিলাম এখানকার আবহাওয়া পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরঞ্জক। তবে এখন দেখছি এখানে অন্য অবস্থা। তবে এতে আমি হতাশ নই। কারণ, এই প্রতিকূল পরিবেশ কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের লক্ষণ নয়। বরংচ নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নাব্যতা বৃদ্ধির কাজে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট। আশা করি পরবর্তীতে আবার আসলে নেভাল-টু’র স্বাভাবিক সৌন্দর্য্যের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবো।’
চট্টগ্রাম হাটহাজারী হতে আগত শারমিন আক্তার ও আব্দুল লতিফ নামক দম্পতি বলেন, ‘আমরা হাটাহাজারি থেকে এখানে ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের আসার উদ্দেশ্য বৃথা গেল।’
তথ্য সংগ্রহকালীন সময়ে ড্রেজিং প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী বা উর্দ্ধতন কোন কর্মকর্তাকে কার্যস্থলে পাওয়া না গেলেও নদী হতে উত্তোলিত মাটি অপসারণের কাজে নিয়োজিত এ্যাসকেভেটরের চালকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা দিন রাত পরিশ্রম করে চলেছি। আশা করি খুব শীঘ্রই নেভাল-টু নামক এই পর্যটন কেন্দ্র তার পুর্বেকার রূপ সৌন্দর্য্য ফিরে পাবে।
সদরঘাট হতে বালিয়ারচড় ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ করছেন চায়না ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ‘চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।
বার্তাবাজার/এম.কে