নুসরাত হত্যার রায় প্রমাণ করে সরকার পুলিশের ওপর নির্ভরশীল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, বহুল আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায়ে পুলিশ সদস্যদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই রায় প্রমাণ করে পুলিশের ওপর নির্ভরশীল এই সরকার। সে জন্য পুলিশ সদস্যদের মামলা থেকে ছাড় দিয়ে যাচ্ছে।’ ১৮ দিন অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর সফর শেষে দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার দুপুরে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে, নুসরাত হত্যার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ আহ্বায়ক বেগম সেলিমা রহমান ও সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরী। তারা অভিযোগ করেন, ‘এ রায়ে পরিপূর্ণভাবে ন্যায় বিচারের প্রতিফলন ঘটেনি। নিষ্ঠুর এ হত্যাকাণ্ডের পর দায়িত্বে অবহেলার কারণে থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও তাকে সাজা না দিয়ে আড়াল করা হয়েছে।’

মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, ‘এই সরকার তো নির্বাচিত সরকার নয়, তাদের কোনও ম্যান্ডেট নেই। তারা জোর করে ক্ষমতায় আছে। জোর করে থাকার জন্যই তারা এই ধরনের দুর্বৃত্তায়ন করছে।’ এসময় তিনি নতুন নির্বাচনের দাবিও জানান।

বিএনপির মহাসচিব জানান, গত ৩ অক্টোবর রাতে চিকিৎসার জন্য তিনি স্ত্রী তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে নিয়ে সিঙ্গাপুর যান। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।

চিকিৎসা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে অস্ট্রেলিয়া যান বিএনপি মহাসচিব। সেখানে তিনি ‘এশিয়া প্যাসিফিক ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (এপিডিইউ)-এর বৈঠকে যোগ দেন। তিনি এই সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান।

এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরের আমার চিকিৎসার কিছু ফলোআপ ছিলো। ওখানে দুই দিন থাকার পরে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছি। আপানারা সবাই জানেন, সেখানে আমার বড় মেয়ে (সামারুহ মির্জা) থাকে। আমি দলের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছিলাম যে, কিছুদিন একটু ওদের সঙ্গে কাটিয়ে আসবো।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আবার আমার এশিয়া প্যাসিফিক ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের একটা কনফারেন্স ছিল। আর অস্ট্রেলিয়ার যে রুলিং পার্টি—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, তারা আমাকে দাওয়াত করেছিল তাদের ফেডারেল কনফারেন্সে। এটা শেষ করে আমি আজ দেশ ফিরছি।’

অনেক ঘটনা মিস করেছেন মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে যখন ঘটনার ঘনঘটা, ওই সময়টা আমি মিস করেছি। তবে আমি ট্র্যাকে ছিলাম, খোঁজ-খবর রেখেছি, অবজার্ভ করেছি। বুয়েটের আবরার হত্যার যে ঘটনা, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক, এটা ক্ষমাহীন অপরাধ। এই অপরাধের পেছনে সম্পূর্ণভাবে সরকারকে দায়ী করবো এজন্য যে, সরকারের রুলিং পার্টি। তাদের প্রশ্রয়ে এসসব এলিমেন্ট আজ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ বা যুবলীগ গত কয়েক বছর ধরে একেবারেই লাগামহীন হয়ে পড়েছে, গোটা দেশে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।’

আবরার হত্যা নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে বিষয়টা নিয়ে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে, এটা কোনও মতেই কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন সাধারণ নাগরিক তার দেশের স্বার্থ সম্পর্কে একটা মত দিতে পারবেন না, এটা কখনও চিন্তা করা যায় না। আমরা মনে করি যে, ভারতে যে প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি যে চুক্তিগুলো করেছেন, যেসব এমওইউ সই করেছেন, সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। শুধু তাই নয় বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশের স্বার্থ বিঘ্নিতও হয়েছে। এই কথাগুলো বলতে গিয়ে একজন প্রাণ হারাবে, এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি মনে করি যে, এজন্যই সরকারের পদত্যাগ করা উচিত ছিলে।’

ভোলার ঘটনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ব্যাপারটা খুবই দুঃখজনক। এই ধরনের ঘটনাগুলোয় আমার কেন যেন সন্দেহ হয়, নিশ্চয়ই কোনও না কোনও মহল থেকে এই ধরনের ঘটনাগুলোকে উসকানি দেয়। এই ঘটনায় পুলিশ যে গুলি করেছে, সেটা নিন্দনীয়। এজন্য যে, আমরা দেখলাম ভোলায় কোনও রকমের ভায়োলেন্স ছিল না, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর পুলিশ আক্রমণ করেছে, গোলাগুলি করেছে। এতে প্রমাণিত হয়—ভিন্নমত প্রকাশে কোনও স্বাধীনতা নেই। যেটা আমরা বার বার বলে আসছি।’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার একটার পর একটা সমস্যা তৈরি করেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, তারা তো নির্বাচিত হয়ে আসেনি। নির্বাচিত হয়ে এলে যে ধরনের দায়িত্বশীলতা থাকা দরকার, তা থাকতো। এখানে সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ হচ্ছে।’

‘৩০ ডিসেম্বর মানুষ ভোট দিতে পারেনি’ রাশেদ খান মেননের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মেনন ভাইকে ধন্যবাদ দেই যে, এতদিন পর তিনি সত্য কথা বললেন। এরপর সরকারের উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করা।’ এ সময় চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে সম্পূর্ণভাবে আইওয়াশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর