দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই তালিকায় ঠাঁই হতে পারে বলে আশায় বুক বেঁধেছিল ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। কিন্তু এবারও এ তালিকায় ঠাঁই না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধুমতি নদীর তীর ঘেঁষে টিটা গ্রামে ১৯৯৮ সালে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্থাপিত হয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যাপীঠ।অনেক স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিদ্যালয়টি।কিন্তু ২০ বছরেও এ বিদ্যালয়ে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া পায়নি।
বিদ্যালয়ের মনোরম পরিবেশ যে কারো নজড় কাড়তে সক্ষম হলেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি নামের এই বিদ্যাপীঠ বড়ই অবহেলিত।বহু পুরাতন একটি ভাঙ্গা টিনশেড ঘর, আসবাবপত্রের অভাবসহ নানা সমস্যায় বিদ্যালয়টি জর্জরিত।শিক্ষক-শিক্ষিকারা অক্লান্ত পরিশ্রমে পাঠদান অব্যাহত থাকলেও বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্ত না হওয়ায় দীর্ঘ দুই বছরেরও অধিককাল থেকে শিক্ষকরা ঠিকমতো বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত।
বিদ্যালয়টির একমাত্র ভরসা পুরাতন টিনশেড ঘরটির খুঁটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।যে কোন সময় হেলে পরতে পারে।বর্ষার সময় টিনের চালা দিয়ে পানি পরে।পানিতে সয়লাব হয়ে যায় মেঝে,অনেক সময় ভিজে যায় বই খাতা।ঝড় আসলে টিনের চালা উড়িয়ে নিতে পারে যেকোন সময়ে।আবার গরমের সময় অতিরিক্ত তাপের কারনে ঘামে ভিজে জবজবে হতে হয় শিক্ষার্থীদের।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১১জন শিক্ষক ও ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।ভৌগলিক দিক দিয়ে বিদ্যালয়টির অবস্থান একটি দ্বীপের উপর।আর এই দ্বীপে ৪/৫ গ্রাম মানুষের বসবাস।তাই ৪/৫ গ্রাম মানুষের জুনিয়র শিক্ষা লাভের একমাত্র ভরসা এই প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুল আলম জানান, ‘খুব কষ্ট হয়।আশায় আশায় এত বছর ধরে শিক্ষকতা করে যাচ্ছি, কিন্তু প্রাপ্তির ফলাফল সবশেষে শূন্য।
বিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষক দুলাল চন্দ্র জানান, ‘মাঝে মাঝে খুব হতাশা কাজ করে।বিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের মুখ দেখে অনেকটা দায় নিতে এই বিদ্যালয়ে পড়ে আছি।এত বড় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনে হয় যেন অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়।এমপিওভুক্ত হলে আমাদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসতো।’
শিক্ষকদের সমস্যাগুলো প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর।বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ‘স্যারদের মনে আনন্দ দেখলে ভালো লাগে।আমরা জানি, স্যারেরা বেতন ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।কিন্তু এভাবে আর কতদিন?
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাহিনা খানম বার্তা বাজারকে বলেন,’প্রতিষ্ঠার প্রথম বছর থেকেই কাম্য ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ও পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা কর্মচঞ্চলতা হারিয়ে ফেলছে।অনেক আশায় বুক বেঁধেছিলাম।ভেবেছিলাম এবারের তালিকায় আমাদের বিদ্যালয়ের নামটি আসবে।কিন্তু এবারও এমপিওভুক্ত হলো না।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা এমডি কামরুল ইসলাম বার্তা বাজারকে বলেন, ‘এমপিওভুক্তি না হওয়ায় শিক্ষকদের ঠিকমতো বেতন দেওয়া সম্ভব হয় না।২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের এ তালিকায় বিদ্যালয়টির এমপিওভুক্ত করণে নাম ঘোষণা না হওয়ায় সবকিছু মিলিয়ে ঝিমিয়ে পড়ার অবস্থা হয়েছে।এ থেকে উত্তোরণের একমাত্র উপায় এমপিওভুক্তি করা।প্রধানমন্ত্রী সদয় হলে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তি হবে।দুর্গম এলাকার অনেক ছেলেমেয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।
বার্তাবাজার/এম.কে