ইরাকে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ১৪৯ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। এদের মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশকে মাথায় বা বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
বিক্ষোভ তদন্তকারী সরকারি একটি কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারী কমিটির প্রতিবেদনটি দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তারা বলেছে, বিক্ষোভকারীদের দমাতে অত্যধিক শক্তি প্রয়োগ করেছে ইরাকের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। বিক্ষোভকারীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে তারা। প্রতিবেদনে এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের দোষারোপ করা হয়েছে। দেশজুড়ে বেকারত্ব, নিম্নমানের জনসেবা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ মাসের শুরু থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরাকে।
সহিংস ওই বিক্ষোভে প্রাণ হারায় বহু মানুষ। বিক্ষোভকারীরা রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনেন। আরো অভিযোগ করেন রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে সাধারণ জনগণের জীবনমান উন্নত করার দিকে নজর দেন না।
বিক্ষোভ নিয়ে তদন্তকারী কমিটি জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বিক্ষোভের সময় তাদের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। শীর্ষ কর্মকর্তারা কখনোই নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। কমিটি সুপারিশ করেছে যে, বাগদাদে বিক্ষোভ সামলানোর দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ও আরো কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করে তাদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য শুরু করা হোক।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনা তদন্ত করে দেখতে এই কমিটি গঠন করেন। এ ছাড়া, তার মন্ত্রিপরিষদে রদবদল আনা ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তবে তার সমালোচকরা বলছেন, মাহদির প্রতিশ্রুতি অস্পষ্ট। এতে জনগণের ক্ষোভ কমবে না। ইতিমধ্যে আগামী শুক্রবার ফের বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে আয়োজকরা। প্রসঙ্গত, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ বন্ধ রয়েছে।
স্নাইপার
বিক্ষোভ তদন্তকারী কমিটি জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে হওয়া বিক্ষোভে ১৪৯ জন বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর আট সদস্য নিহত হয়েছে। তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর জন্য স্নাইপার মোতায়েনের প্রমাণ পেয়েছে।
তারা প্রতিবেদনে বলেছে, তদন্ত কমিটি বাগদাদের মধ্যাঞ্চলের নিকটস্থ একটি ভবনে স্নাইপার রাইফেল খুঁজে পেয়েছে। গত সপ্তাহে নাম না প্রকাশের শর্তে দুই ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের দমাতে ইরান-সমর্থিত স্নাইপার মিলিশিয়া মোতায়েন করেছে সরকার।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর পতন ঘটে। এরপর থেকে বর্তমান পর্যন্ত ইরাকে সংঘটিত সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভ ছিল এটি।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস