আগের ১১ দফার সঙ্গে নতুন দুই যোগ করেছে আন্দোলনরত ক্রিকেটাররা। এর মধ্যে আলোচনায় চলে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়ের ভাগের দাবিটি। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলোর পেশ করা হয়।
ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান দাবিগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে ১২তম দাবি হচ্ছে আয়ের লভ্যাংশ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কয়েক বছরের মধ্যে ভারতের পর ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ।
ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে ক্রিকেট থেকে আয় করা অর্থ ক্রিকেটারদের কল্যাণেই কাজে লাগানো উচিৎ। এদিকে সাংবাদিকদের হাতে দেয়া লিপিবদ্ধ থাকা দাবিগুলোতে সেটি আরও পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রথম দাবিতে উল্লেখ থাকা প্রফেশনাল ক্রিকেটারস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি কল্যাণ ফান্ড তৈরি করা হবে।
সেখান থেকে ১২তম দাবিতে আয়ের টাকাগুলো ওই ফান্ডের মাধ্যমে অবসর নেয়া ক্রিকেটারদের ভাতা দেয়া হবে। এছাড়া উল্লেখ করা হয়েছে, খেলতে গিয়ে ইনজুরি আক্রান্ত হলে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের ইন্সুরেন্সেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে বোর্ডের আয়ের স্বচ্ছতা ও সঠিক জবাবদিহিতার জন্যও দাবিতে জোর দেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, ক্রিকেটারদের এই আন্দোলন কারও উস্কানিতে নয় কিংবা কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। বোর্ডের কারও সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ,দুঃখ কিংবা বিরাগ নেই।
সাকিব বলেন, ‘যেহেতু আমরা সিদ্ধান্তগুলো সবাই মিলে নিয়েছিলাম, তাই এবারও একসঙ্গে নিতে হচ্ছে। আর সিদ্ধান্তগুলো সুন্দরভাবে জানাতে আমাদের এক-দুই দিন সময় লেগেছে। বিসিবি আমাদের ডেকেছে আমরা অবশ্যই যাবো। আমরা অবশ্যই আলোচনা করবো। আলোচনায় বসলে সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি আশাবাদী।’
বিসিবির প্রতি আগে যতটুকু সম্মান ছিল তেমনটাই রয়েছে উল্লেখ করে সাকিব বলেন, ‘আমরা কেউ কারও থেকে দূরে না। আসলে দুইটা পার্ট মিলেই বিসিবি। আর ব্যক্তিগত আক্রমণ করার আমাদের কারও ইচ্ছে নেই।
বিসিবির প্রতি আমাদের সম্মান ছিল, এখনও আছে। প্রতিটা খেলোয়াড়ই চায় খেলতে, সুস্থ থাকতে এবং তাদের পরিবারকে সমর্থন করতে। যে কারণেই এই দাবিগুলো মাঝেমাঝে করা লাগে যেটা তারা করেছে।’
বার্তাবাজার/কেএ