খেলোয়াড়দের জন্য বিসিবির অপেক্ষা, মিলছে না সাড়া

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত ক্রিকেটারদের সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানালেও কারও কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

আজ বুধবার, বিকেল ৫টায় খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক করার জানালেও এখন পর্যন্ত ক্রিকেটাররা আসবেন কিনা সে বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

ক্রিকেটারদের সব দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত বিসিবি, বিকেল ৫টায় খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক হবে। আর, এসব বিষয়ে অবহিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বুধবার দুপুরে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে যান নাজমুল হাসান পাপন। সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে, বুধবার বিসিবিতে টাইগারদের ১১ দফা দাবি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘খেলোয়াড়েরা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেটারদের দাবি বিবেচনা করা হবে। সব দাবি আর্থিক, তাই এগুলো চাইলে সমাধান সম্ভব। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য তামিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে বোর্ড আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।’

মঙ্গলবার, ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি বিসিবি’কে না জানিয়ে মিডিয়াতে জানানোকে অপ্রত্যাশিত ও অবিশ্বাস্য বলে মন্তব্য করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবি পরিচালকবৃন্দ ও ক্রিকেটারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর বিসিবি সভাপতি এ কথা বলেন।

এরপর, ক্রিকেটারদের সমস্যা সমাধানে বোর্ড প্রেসিডেন্ট কথা বলার চেষ্টা করলেও ফোন ধরেননি কোন খেলোয়াড়।

এর আগে, সোমবার মোট ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। ১১ দফা দাবিগুলো হলো:

১. ক্রিকেটারদের স্বার্থ নিয়ে কখনো সোচ্চার না হওয়ায় কোয়াবের বর্তমান কমিটির প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিসহ সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে। ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি ক্রিকেটারদেরই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে দিতে হবে।

২. প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের নিয়ম আগের মত করতে হবে, যেন ক্রিকেটারদের দল বেছে নেবার এবং পারিশ্রমিক নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ থাকে।

৩. পরের বছর থেকে আগের মত বিপিএল হতে হবে, বিদেশীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে হবে। নিলামের সময় ক্রিকেটারদের নিজেদের গ্রেড বেছে নেবার স্বাধীনতা দিতে হবে।

৪. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ১ লাখ, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। সারা বছরই কোচ-ফিজিও-ট্রেনারের ব্যবস্থা করতে হবে বিভাগীয় পর্যায়ে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ভালো মানের বল দিতে হবে।

৫. ডিএ ১৫০০ টাকার চেয়ে বাড়াতে হবে। ট্রাভেল অ্যালাউন্স ২৫০০ টাকায় কিছু হয় না। ম্যাচ ভেন্যুতে যেন ক্রিকেটাররা প্লেনে যেতে পারে এবং স্টেডিয়ামে যেন হয় মানসম্পন্ন, অন্তত এসি বাস দিতে হবে। জিম এবং সুইমিংপুল আছে এমন হোটেলে ক্রিকেটারদের রাখতে হবে।

৬. জাতীয় পর্যায়ে চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়াতে হবে; বাড়াতে হবে তাদের বেতন।

৭. বাংলাদেশের সব পর্যায়ের কোচ-আম্পায়ার-ফিজিও-ট্রেনার থেকে গ্রাউন্ডসম্যান, সবার বেতন বাড়াতে হবে।

৮. ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বাড়াতে হবে; বিপিএলে আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে; জাতীয় লিগে চার দিনের ম্যাচের সঙ্গে এক দিনের ম্যাচও আয়োজন করতে হবে।

৯. ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকতে হবে।

১০. ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হবে।

১১. বিদেশে দুটির বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলা যাবে না, এমন নিয়ম তুলে দিতে হবে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর