সিরাজগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় মোছাঃ রাশিদা বেগম (৩০) নামে এক প্রসূতি নারীর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। মৃতের স্বামী বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ কড্ডার মোড় ল্যাব এইচ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকের সার্জন ও কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এম এম সুমনুল হক সজীবকে ১ম, ল্যাব এইচ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজকে ২য় ও ম্যানেজার মো. ফরিদুল ইসলামকে ৩য় আসামী করে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সিরাজগঞ্জ বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে নিহত প্রসূতির স্বামী মো. মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে ফৌজদারী অভিযোগ (যাহার নং-১৯৮/২০১৯ইং) করলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজগঞ্জ সদর থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
নিহত রাশিদা বেগম সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের বড় শিমুল পঞ্চসোনা গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী।
আরও জানা যায়, নিহত রাশিদা বেগমের স্বামী মনিরুল ইসলাম চলতি মাসের ৫ অক্টোবর সকালে তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে নিকটস্থ কড্ডার মোড় ল্যাব এইচ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকে নিয়ে যায়। সেখানে ওই ডায়াগনস্টিকের সার্জন ও কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এম এম সুমনুল হক সজীব তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
ডা. সজীব রোগীকে দেখে জরুরি অপারেশন করার জন্য ল্যাব এইচে ভর্তি করাতে বলেন। পরে ডাক্তারের পরামর্শ মতো রোগীকে সেখানে ভর্তি করালে ডা. সজীব ঐ দিন দুপুর ৩টায় তার স্ত্রীকে সিজার করেন। তবে সেখানে তার নবজাতক মারা যায়।
কিন্তু অপারেশনের পর থেকে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। সেখানে তাকে তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। এরপরও রোগীর অবনতি ঘটলে চিকিৎসক দ্রুত রোগীকে ঢাকা বা বগুড়ায় নিয়ে যেতে বলেন।
এরপর, মুমূর্ষু অবস্থায় মনিরুল ইসলাম তার স্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ছয় ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।
কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অপারেশনের ফলে মোছা. রাশিদা বেগমের নারী কেটে গেছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তখন অসহায় হয়ে মনিরুল তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার হলি ফ্যামিলিতে দুদিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, লাল মাটিয়ার রয়েল হাসপাতাল ও সবশেষে মিরপুরের ডেল্টা মেডিকেল হাসপাতালে ঘুরেও চিকিৎসকরা রোগীকে ফেরত দেয়। পরে গতকাল রোববার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাশিদা মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে মারা যান।
বার্তাবাজার/এম.কে