ক্রিকেটাররা খেলতে না চাইলে খেলবে না : পাপন

ক্রিকেটারদের এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত ও অবিশ্বাস্য বলে মন্তব্য করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। টাকার জন্য ক্রিকেটাররা খেলা বন্ধ করে দেবেন এমনটাও ভাবতে পারেন না বিসিবি সভাপতি।

মঙ্গলবার, বিসিবি পরিচালকবৃন্দ ও ক্রিকেটারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন ।

এ সময় বিসিবি সভাপতি বলেন, ১৫ জন ক্রিকেটারকে ২৪ কোটি টাকা বোনাস দেয়া হয়েছে যা অতীতে কখনো হয়নি। তাদের বেতন ১ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৪ লক্ষ করা হয়েছে। এত টাকা বাড়ানো হয়েছে যা ক্রিকেটাররা কখনও চিন্তা করেনি। খেলোয়াড়দের পছন্দে কোচ নির্বাচন সম্ভব নয়। বিপিএলের পারিশ্রমিক বোর্ডের হাতে নয়। তাদের এমন আচরণে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। খেলোয়াড়রা এমন ভাব করছে যেন বোর্ড কিছুই করছেনা।

পাপন বলেন, কোন কিছু না জানিয়ে ধর্মঘটে যাওয়া পরিকল্পনার অংশ। হঠাৎ করে এমন দাবির পেছনে অন্য কোন কারণ আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। খেলোয়াড়রা খেলতে না চাইলে খেলবে না। বিসিবিকে না জানিয়ে কেন মিডিয়াকে জানাতে হবে?

এরআগে, সোমবার মোট ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা।

১১ দফা দাবিগুলো হলো:

১. ক্রিকেটারদের স্বার্থ নিয়ে কখনো সোচ্চার না হওয়ায় কোয়াবের বর্তমান কমিটির প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিসহ সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে। ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি ক্রিকেটারদেরই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে দিতে হবে।

২. প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের নিয়ম আগের মত করতে হবে, যেন ক্রিকেটারদের দল বেছে নেবার এবং পারিশ্রমিক নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ থাকে।

৩. পরের বছর থেকে আগের মত বিপিএল হতে হবে, বিদেশীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে হবে। নিলামের সময় ক্রিকেটারদের নিজেদের গ্রেড বেছে নেবার স্বাধীনতা দিতে হবে।

৪. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ১ লাখ, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। সারা বছরই কোচ-ফিজিও-ট্রেনারের ব্যবস্থা করতে হবে বিভাগীয় পর্যায়ে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ভালো মানের বল দিতে হবে।

৫. ডিএ ১৫০০ টাকার চেয়ে বাড়াতে হবে। ট্রাভেল অ্যালাউন্স ২৫০০ টাকায় কিছু হয় না। ম্যাচ ভেন্যুতে যেন ক্রিকেটাররা প্লেনে যেতে পারে এবং স্টেডিয়ামে যেন হয় মানসম্পন্ন, অন্তত এসি বাস দিতে হবে। জিম এবং সুইমিংপুল আছে এমন হোটেলে ক্রিকেটারদের রাখতে হবে।

৬. জাতীয় পর্যায়ে চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়াতে হবে; বাড়াতে হবে তাদের বেতন।

৭. বাংলাদেশের সব পর্যায়ের কোচ-আম্পায়ার-ফিজিও-ট্রেনার থেকে গ্রাউন্ডসম্যান, সবার বেতন বাড়াতে হবে।

৮. ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বাড়াতে হবে; বিপিএলে আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে; জাতীয় লিগে চার দিনের ম্যাচের সঙ্গে এক দিনের ম্যাচও আয়োজন করতে হবে।

৯. ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকতে হবে।

১০. ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হবে।

১১. বিদেশে দুটির বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলা যাবে না, এমন নিয়ম তুলে দিতে হবে।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর