শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী গ্রামে ছাগলে সিমগাছ খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী জাহিদুল ইসলাম (৩৫) কর্তৃক ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহেল (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এক সন্তানের জনক নিহত সোহেল সদর উপজেলার সাপমারী গ্রামের জনৈক বয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সাপমারী গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম তার বাড়ীর সাথে সরকারি রাস্তা সংলগ্ন সিমগাছ লাগায়।
২১ অক্টোবর সোমবার কে বা কার ছাগল ওই সিমগাছ খেয়ে ফেলে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সোহরাব আলীর ছেলে আজিজুল ইসলামের সাথে ছাগলে সিমগাছ খেয়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে জাহিদুল ইসলাম তার সাথে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া বিবাদ করে। এক পর্যায়ে জাহিদুল ইসলাম আজিজুল ইসলামের স্ত্রী মাজেদা বেগমকে মারধর করে।
পরে বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিমাংসার চেষ্টা করে। এদিকে মঙ্গলবার ভোরে আজিজুল ইসলাম তার গোয়াল ঘর থেকে গরু বের করার সময় জাহিদুল ইসলাম ও তার পালক পিতা বাবু, আশরাফুল ও হাসেনসহ ৪/৫ জন দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে আজিজুল ইসলাম ও তাঁর আত্মীয় ফরিদুলের উপর হামলা চালায়।
এসময় ওই ঘটনাস্থলে সোহেল এগিয়ে গেলে জাহিদুল ইসলাম তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে সোহেলকে শরীরের বিভিন্নস্থানে এবং বুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে আত্মীয়-স্বজন সোহেলকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনার পর থেকে জাহিদুল ইসলামসহ অপরাপর সহযোগিরা এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ আমিনুল ইসলাম ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।
এব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান সোহেল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বার্তাবাজার/এম.কে