জাহালমের পর নয়ন! নামের মিলের কারণে জেলে!

ঘটনার শুরু এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হওয়া দিয়ে। আর, স্কুলছাত্রী উদ্ধার হওয়ার পর শুরু হয় নয়ন নাটক।

নাম ও চেহারায় মিল থাকায় গ্রেপ্তার হয়ে ২৬ দিন কারাগারে আটক ছিলেন টাঙ্গাইলের এক তরুণ। কারাগারে থাকায় অংশ নিতে পারেননি বিএ ফাইনাল পরীক্ষাতেও। পরে, তদন্তে সন্ধান মেলে মূল আসামির।

ঘটনার শুরু এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজের জেরে। গত ২১শে সেপ্টেম্বর, টাঙ্গাইলের সখিপুরের চাপড়াবিল থেকে নিখোঁজ হন ওই ছাত্রী।

ঘটনার চারদিন পর উদ্ধার হওয়া ওই ছাত্রী জানায়, ঘটনায় জড়িত নয়ন নামের একজন। নামের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার হন একই গ্রামের শাজাহান মিয়ার ছেলে বাবুল হোসেন নয়ন। ওই ছাত্রীও পুলিশের সামনে সনাক্ত করে নয়নকে। করা হয় ধর্ষণ ও অপহরণের মামলা।

অধিকতর তদন্তে বের হয় আরেক ঘটনা। পুলিশ বলছে নিখোঁজের চারদিন ছাত্রীর অবস্থান ছিলো কক্সবাজারে। কারাগারে থাকা নয়ন নয়, তার সঙ্গে ছিলেন বাসাইল উপজেলার বাঘিল গ্রামের নূহু মিয়ার ছেলের নয়ন।

টাঙ্গাইলের সখিপুর থানার ওসি আমির হোসেন বলেন, ‘তাদের সনাক্তমতেই আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি। ওখানে একটা রেজিস্ট্রারে একটা মোবাইল নাম্বার ছিলো, যার সূত্র ধরে আরেকটা নয়নকে বের করে গ্রেপ্তার করি।’

অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণের পর নয়ন ছাড়া না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবার ও স্থানীয়রা। তারা জানান, কারাগারে থাকায় নয়ন পরীক্ষাও দিতে পারেনি। তাদের বলা হচ্ছে রিমান্ডের জন্য থানায় নয়নকে আরও ২ দিন রাখা হবে। এ ঘটনায়, বিচার চেয়ে মামলা করার কথা বলেন নয়নের বাবা শাজাহান মিয়া।

তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। টাঙ্গাইল আদালতের সরকারি কৌসুলি এ. কে. এম শামিমুল আকতার জানান, ‘যে আসামি এখন হাজতে আছেন, তার পক্ষ নিয়ে আইনজীবী চার্জশিট পর্যন্ত তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন।’

পুলিশ বলছে শিগগিরই নির্দোষ নয়ন মুক্তি পাবে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে এই নয়ন সেই নয়ন না। পরে, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ মূল নয়নকে গ্রেপ্তার করে এবং সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।’

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর