সিরাজগঞ্জে তিন যুগ ধরে বিনেপয়সায় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে মালেকা বেগম

রাজশাহী শিক্ষা

এম এ মালেক, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: অজোপাড়া গাঁ ডেফলবাড়ি। এই গ্রামেরই হতদরিদ্র গৃহবধূ মালেকা বেগম (৫০)। তার বাড়ির উঠোনটি এখন হয়ে উঠেছে ‘জ্ঞানের আলো শিক্ষালয়’ রূপে। প্রতিদিন ভোরে শত শত নারী ও শিশু বই-খাতা নিয়ে দলবেঁধে পড়তে আসে এখানে। জানা যায় প্রায় তিন যুগ ধরে মালেকা বেগম বিনা পয়সায় গ্রামের নারী ও শিশুদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

এখানে তাদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি কোরআন পড়ানো হয়। নিরক্ষর ও হতদরিদ্র নারীদের বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়েছে ‘জ্ঞানের আলো শিক্ষালয়’। শুধু তাই নয় এ গ্রামের নিরক্ষর গৃহিণীরাও পড়তে আসেন এ স্কুলে। এলাকায় মালেকা বেগম শিক্ষা জননী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের ডেফলবাড়িতে গিয়ে দেখা যায় জ্ঞানের আলো শিক্ষালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকার গৃহবধূরাও বাড়ির উঠানে চট পেতে বসে কোরআন ও প্রাক-প্রাথমিকের জ্ঞান অর্জন করছেন। শিক্ষার্থীদের পরম যত্নের সঙ্গে পাঠদান করছেন গৃহবধূ মালেকা বেগম।

এ ব্যাপারে মালেকা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ গ্রামের অব্দুল কাদেরের সঙ্গে তার বিয়ে হয় প্রায় ৩৬ বছর আগে। বিয়ের পর তিনি খেয়াল করেন ফুলজোড় নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত ডেফলবাড়ি গ্রামের শিশুদের পবিত্র কোরআন শেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি এ গ্রামের নারীদের অনেকেই কোরআন পড়তে জানে না। তাই বিয়ের কয়েক বছর পর তিনি ঠিক করেন শিশু ও গৃহবধূদের তিনি কোরআন পাঠ শেখাবেন।

কয়েকটি মাদুর ও চটের ব্যবস্থা করে তার বাড়ির উঠানেই শুরু করেন তিনি কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম। এটা দেখে তার ছেলে আবুল হোসেন ২০১১ সালে এ বিদ্যালয়ের নামকরণ করেন ‘জ্ঞানের আলো শিক্ষালয়’। সেই থেকে প্রায় ৯ বছর ধরে এ নামেই চলছে এর কার্যক্রম।

মালেকা বেগমের ছেলে বৃক্ষপ্রেমী আবুল হোসেন বলেন, অভাবের সংসারেও আমার মা শিশু ও নারীদের লেখাপড়া শিখিয়ে কোনো টাকা-পয়সা নেন না। মায়ের এ কাজের জন্য ছেলে হিসেবে আমি গর্বিত।

এই শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থী গৃহবধূ সবুরা বেগম বলেন, আমি মালেকা বেগমের কাছে কোরআন পড়া শিখেছি। একই সঙ্গে শিখেছি বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের প্রাথমিক পাঠ। আমি এখন নিজেই আমার পরিবারের সব খরচের হিসাব রাখতে পারি।

বড়হর ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন জানান, মালেকা বেগম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র পরিবারের শিশু ও মায়েদের গত ৩০ বছর ধরে বিনা পয়সায় কোরআন ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে আসছেন। তিনি এই শিক্ষা দিয়ে এলাকার মানুষের কাছে শিক্ষা জননী রূপে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ডেফলবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ মালেকা বেগমের বিনা পয়সায় এই শিক্ষালয়টি এলাকায় বেশ পরিচিত। তিনি মালেকা বেগমকে শিক্ষা বিস্তারের পথিকৃৎ উল্লেখ করে তার শিক্ষা কেন্দ্রের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।