রঙিন ভালোবাসার আমেজে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

জীবনযাত্রা

ফেব্রুয়ারি বছরের সবচেয়ে ছোট মাস হলেও এই মাসের প্রতিটা দিনেই থাকে উৎসবের আবহ। গতকালই শেষ হলো ফাল্গুন উৎসব। ফাগুনের হাওয়া এখনো বইছে শহরে, এর মাঝেই চলে এসেছে ভালোবাসা দিবসও। তাই রঙিন ভালোবাসার আমেজ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো।

ভালোবাসা দিবস পশ্চিমা সংস্কৃতির অংশ হলেও বাংলাদেশে এটি বেশ ভালোভাবেই উদযাপিত হয়। বিগত দশ বছরে সেই উদযাপনের পরিধি আরো বেড়েছে। অপেক্ষাকৃত তরুণ জনগোষ্ঠীর কাছে দিনটি হয়ে উঠছে বিশেষ কিছু!

ভালোবাসা মানে সুখ, ভালোবাসা মানে দুঃখ, ভালোবাসা মানে আশা, ভালোবাসা মানে আশাভঙ্গ! প্রেম ও বিরহ নিয়েই ভালোবাসা বিরাজ করে মানুষের মনে। এই দিনে বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরাও ভালোবাসার লাল রং আর লাল গোলাপ নিয়ে দিনটি উদযাপন করছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয়েছে ভালোবাসা দিবসের নানা উৎসব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি এলাকায় কনসার্টের আয়োজন করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। কলাভবনের সামনে জমেছে পুরনো বাংলা গানের আসর।

অনুষ্ঠান হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়েও। তবে ভালোবাসা দিবসের আঁচ সবচেয়ে বেশি লেগেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই গান-নাচ নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

তবে গতকালের বসন্ত উৎসবের তুলনায় ভালোবাসা দিবসে ঘুরতে বের হওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক কম। গতকালের ক্লান্তির কারণেই আজকে লোক সমাগম কম বলে মনে করছেন টিএসসির কর্মকর্তা সুজন। ডেইলি বাংলাদেশকে তিনি বলেছেন, গতকাল সবাই এসেছিল। ভিড় ঠেলে ঠেলে সবাই হয়ত পরিশ্রান্ত এজন্য আজকে লোক সমাগম কম। তবে উৎসবের দিনের পরিবেশ এমন হলেই বেশি ভালো।

তবে ভালোবাসার ধরণ রীতিমতো পাল্টে যাচ্ছে! ভালোবাসার রঙ, ঢং, রূপ, সৌন্দর্য, গন্ধ, অনুভূতি হারিয়ে যাচ্ছে অতল গভীরে। সব কিছুতেই এখন ভার্চ্যুয়াল ছোঁয়া লেগেছে। যার ফলে ভালোবাসা মতাময় শব্দটিকেও আধুনিক প্রযুক্তির ভার্চ্যুয়াল মহাসাগরে ফেলে দিচ্ছে। তবে খুব বেশিদিন হয়নি এমন পরিবর্তনের। এইতো কিছুদিন আগে, ভালোবাসাটা ছিল- তরুণ তরুণীদের কাজের ফাঁকে, টিফিনের ফাঁকে ভালোবাসার মানুষটিকে একনজর দেখে নেয়া অথবা সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পুকুরপাড়ে বসে কিছুসময় গল্প করা। আবার প্রেমিকার বাড়ির পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া। কারণ ভালোবাসার মানুষটির বসত ঘরখানা দেখলেই যেন হয়ে যেত প্রিয় মানুষটির সাক্ষাতের অনুভূতি। তারপর উড়ো চিঠি, বেনামি চিঠি কত কি!

প্রসঙ্গত, আজকের দিনে প্রেমিক যুগল যেমন পরস্পরের সান্নিধ্যে কাটায়, তেমনি তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে ভালোবাসার কথাও জানায়। বাংলাদেশে এই দিনটি উদযাপন শুরু হয় নব্বইয়ের দশক থেকে। ১৯৯৩ সালের দিকে আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব ঘটে। সাংবাদিক শফিক রেহমানের হাত ধরেই দেশে ভালোবাসা দিবসের চর্চা শুরু হয়। এ নিয়ে তখন সমালোচনা হলেও পরে তা স্বাভাবিক দিবস হিসেবে গ্রহণ করে নতুন প্রজন্ম।