সমুদ্রের অভিভাবক হবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দুই যুগ অতিক্রম করেছে কোস্ট গার্ড। সম্পদ ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মাঝেও উপকূলীয় এলাকায় জনগণের জানমাল রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মৎস সম্পদ সংরক্ষণ ও অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে অসামান্য সাফল্য দেখিয়েছে এ বাহিনী। প্রত্যাশা করছি, সকলের প্রচেষ্টায় কোস্ট গার্ড হবে ‘গার্ডিয়ান অব দ্য সি’ (সমুদ্রের অভিভাবক)।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাহিনীর সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোস্ট গার্ড ১০৭৭ কোটি টাকার ইয়াবা, ৬৬৬ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্যসহ মোট ৮৬৪৭ কোটি টাকার মালামাল উদ্ধার করেছে। ৪ হাজার অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। অসামান্য কর্মদক্ষতা ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করার জন্য তাদের কয়েকজনকে পদক দেয়া হয়েছে। আশা করব, পদকপ্রাপ্তরা পদক পেয়ে অনুপ্রাণিত হবেন।

তিনি বলেন, ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক ছিচকে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটতো। বিদেশি জাহাজগুলো এসব ঘটনাকে ভুলভাবে জলদস্যুতা হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরোর কাছে রিপোর্ট করতো। যার ফলে আইএমবি কর্তৃক চট্টগ্রাম বন্দরকে উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন বন্দর হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজের ইন্সুরেন্স খরচ ছিল খুব বেশি।

তবে ২০১১-১২ সালে কোস্ট গার্ড বাহিনী নিরলস প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরে চুরি ডাকাতি শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। চট্টগ্রাম বন্দরকে পুনরায় নিরাপদ বন্দরে পরিণত করে। ফলে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড তরান্বিত হয়। আইএমবি কর্তৃক স্বাধীনতার ৪০ বছর পর সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম বন্দরকে ঝুকিপূর্ণ সমুদ্র বন্দরের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। এটি আমাদের কোস্ট গার্ড বাহিনীর সফলতা।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ২০১৮ সালে কোস্ট গার্ড ১৫৪৫ কোটি ২ লাখ টাকা সমমূল্যের অবৈধ পণ্য আটক করছে। মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে ২০১৮ সালে অর্জিত সাফল্যের পরিমাণ ৫০৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোস্ট গার্ড বাহিনীকে আধুনিকরণ করার পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ড বহরে বিসিজিএস তাজউদ্দিন ও বিসিজিএস সৈয়দ নজরুল নামে দুটি জাহাজ কমিশনিং করেছেন। এছাড়া এ বছর আরও দুটি জাহাজ বিসিজিএস মনসুর আলী ও বিসিজিএস কামরুজ্জামান কমিশন করা হবে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড চালু হওয়ার পর গত ৮ বছরে সংস্থাটি ৩০টি সাইক্লোন সেন্টার স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভাবনায় উন্নয়নশীল দেশের জন্য যুগোপযোগী কোস্ট গার্ড বাহিনী তৈরির লক্ষ্যে রূপকল্প ২০৪১-এর আলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি তিনটি স্তরে কৌশলগত পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এম আশরাফুল হক বলেন, দেশের সমুদ্র ও উপকূলে কারেন্ট জাল, জাটকা নিধন, ইয়াবা চোরাচালান বন্ধ, চট্টগ্রাম-মংলা ও পায়রা বন্দরে ছিচকে চুরি বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে কোস্ট গার্ড। ২০১৮ সালে জাতীয় মৎস পুরষ্কারের মতো স্বীকৃতি পেয়ে কোস্ট গার্ড গর্বিত। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কোস্ট গার্ড বাহিনীতে নিজস্ব হেলিকপ্টার, ড্রোন দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলে কোস্ট গার্ডের দায়িত্ব পালনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের উন্নয়ন ও অপারেশানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১০ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ১০ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক, ১০ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক ও ১০ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদকসহ মোট ৪০ জনকে পদক প্রদান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের মধ্যে নৌ-বাহিনী প্রধান ও সাবেক কোস্ট গার্ড প্রধান রিয়ার এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক গ্রহণ করেন।