চট্টগ্রামে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট, বিপাকে চট্টগ্রামবাসী

চট্টগ্রামে গাড়ির চালক ও মালিককে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়ায় কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই বাস, মিনি বাস সহ শহর এলাকার সকল প্রকার গণপরিবহন চালানো বন্ধ করে দেন গণপরিবহন সমূহের চালক ও শ্রমিকরা।

উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে বহদ্দারহাট এলাকায় ফিটনেস না থাকা ও অনির্ধারিত রুটে গাড়ি চালানোর দায়ে বিআরটিএ ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল হক বাসের মালিক মনির হোসেনকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও চালক সহ হেল্পারকে ১ মাস করে কারাদন্ড দেওয়া হয়।

যার প্রতিবাদে আন্দোলন নেমে পরে শহর এলাকার প্রতিটি বাস, মিনিবাস, টেক্সি, টেম্পু সহ অন্যান্য গণপরববহন। এর ফলে সাধারণ জনগণের অপিস, আদালত, স্কুল, কলেজ সহ যার যার কর্মস্থলে আসা যাওয়ায় সৃষ্টি হয় চরম বিপর্যয়। শহরের যেখানে দু চারটি টেক্সি টেম্পু চলতে দেখা যায়। সেখানেও একে অপরকে ঠেলেঠুলে গাড়িতে চড়তে গিয়ে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যেমন; নিউ মার্কেট, স্টেশন রোড, আন্দরকিল্লা, এনায়েত বাজার, কাজীর দেউরি, টাইগার পাস, আগ্রাবাদ ও জিইসি মোড়ে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ গাড়ির অপেক্ষায় দারিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম খুলশী থানাধীন এলাকার বাসিন্দা ও এশিয়ান গ্রুপে এইচ আরের পদে চাকুরীরত মহিলা মোছাম্মৎ নূরজাহান বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে দীর্ঘক্ষণ রোদে দারিয়ে থাকার পরও কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য কোন গাড়ি পাওয়া যায়নি। পরে তিনি তার আদনান নামক ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে মোটরসাইকেলে চড়ে কর্মস্থল রেয়াজউদ্দিন বাজার যান।

এদিকে পরিবহন নেতারা বলছেন কিছু ব্যতিক্রম কথা। পরিবহন সংগঠনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন সাংগঠনিক কোনো সিদ্ধান্ত না থাকলেও বাস মালিকরা ভয়ে রাস্তায় গাড়ি বের করছেননা।

ধর্মঘট প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, ‘ধর্মঘটের বিষয়ে আমাদের কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেই। তবে গতকাল রোববার বিআরটিএ ম্যাজিস্ট্রেট একটি বাস মালিক, চালাক ও হেলপারকে কারাদণ্ড সহ জরিমানা করেছে।’

যার ভয়ে ভীত হয়ে গাড়ির মালিকরা বাস-মিনিবাসসহ অন্যান্য পরিবহন সকাল থেকে বের করছে। তিনি আরো বলেন, আমরাও অনিয়ম ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিরোধিতা করি। আর এজন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট অর্থ জরিমানা করতে পারেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানার বদলে মালিক, চালক ও হেলপারকে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

অপেদিকে সিটি বাস-মিনিবাস ও হিউম্যান হলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক মিয়া বলেছেন, ‘অঘোষিত এই ধর্মঘটের সাথে তারা নেই। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য কোন একটি পক্ষ এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।’

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বন্দর জোনের উপ-কমিশনার তারেক আহমেদ বলেন, “রোববার বহদ্দারহাট মোড়ে বিআরটিএর অভিযানে একটি বাসের মালিক ও চালক-সহকারীদের দণ্ড দেওয়ায় তারা বাস চালাচ্ছেন না বলে শুনেছি।

‘আমরা তাদের ধর্মঘটে না গিয়ে দুই পক্ষের (বিআরটিএ ও বাস মালিকদের মধ্যে সমঝোতা করে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারপরও তারা কেন বাস চালানো বন্ধ রেখেছেন। তা বুঝে আসছেনা। এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তবে আমরা তাদের মাঝে সমঝোতা সাধনের চেষ্টা করছি।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর