শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় আসামী ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সরেজমিন পরিদর্শন ও তদন্ত দাবী করে সাংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(২১ অক্টোবর) সোমবার দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদ সম্মেলন করেন নকলা উপজেলার পূর্বলাভা গ্রামের জৈনিক মোকছেদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে মোকছেদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার ছোটভাই শ্যামলকে হয়রানীমূলকভাবে একটি বিতর্কিত নারী নির্যাতনের মামলায় জড়িয়েছিল পুলিশ। পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে সে স্থানীয় একটি বাড়িতে লুকানোর কারণেই পুলিশ বাড়ির বয়স্ক-অসুস্থ মহিলাসহ অন্যদের প্রতি অযাচিত দুর্ব্যবহার করায় তর্কাতর্কি ও বাদানুবাদ হয়েছে মাত্র।
সেখানে আসামি ছিনতাইয়ের কোন ঘটনা ঘটেনি। বরং ওই তুচ্ছ ঘটনার পর থানা পুলিশের লোকজন ওই বাড়িতে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে। এরপর শ্যামলের বাড়িতে তান্ডবসহ স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করা হয়েছে।
আর তাতে বাধা দেওয়ার কারণে শ্যামলের স্ত্রী সুবর্ণাকে (৩০) দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় হাজতে ঢুকানো হয়েছে, যা একেবারেই অমানবিক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশী গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা পুরুষশূন্য হওয়ার সুবাদে তার ছোটভাইয়ের মৎস্যখামার থেকে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার মাছ দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে গেছে। ওই ঘটনায় এলাকাবাসীর তরফ থেকে সুষ্ঠু তদন্তসহ প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে নকলা উপজেলার পূর্ব লাভা গ্রামের আলহাজ্ব হায়েত আলীর (৬৫) বাড়ি থেকে এসআই আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ একটি ধর্ষণ মামলার সহযোগী আসামী শ্যামল (৪৫) কে গ্রেফতার করে। ওই ঘটনায় ওই বাড়ির লোকজনের সাথে পুলিশের বাদানুবাদ এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। ওই সুযোগে কৌশলে সটকে পড়ে আসামি শ্যামল।
পরে ওই ঘটনায় এসআই আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা, হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গৃহকর্তা হায়েত আলীসহ ৩৫ জনকে স্ব-নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৪৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৪ নারীসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে। ওই মামলা, গ্রেফতার ও অভিযানের ঘটনায় ঘটনার পর থেকেই এলাকাটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে।
গ্রেফতার পরবর্তী ওই ৮ আসামির জামিনের আবেদনসহ পুলিশ রিমান্ডে আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে দু’দিনের জন্য জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহসিনা হোসেন তুশী।
এব্যপারে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আলমগীর হোসেন শাহ বলেন, সাংবাদিক সম্মেলন করে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট। বরং তারা আসামী ছিনাতাইয়ের ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলছে।
বার্তাবাজার/এম.কে