আলফাডাঙ্গায় দাপট কেবল মাটি বোঝাই ট্রাকের

ঢাকা

মিয়া রাকিবুল,ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার অনেক স্থানে এক শ্রেনীর মাটি ব্যবসায়ী ফসলী জমি খনন করে বিভিন্ন জায়গা, খাল ও গর্ত ভরাট করতে এবং ইট ভাটায় মাটি বিক্রি করছে।আর এসকল মাটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ড্রামট্রাক।মাটি বোঝাই এই ড্রাম ট্রাকের দাপটে এখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।

ড্রামট্রাকে করে মাটি বোঝাই করে নিয়ে যাওয়ার ফলে পাকা সড়ক ও গ্রামীণ সড়কগুলো পরিণত হয়েছে ধূলার স্তুপে।ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।

অতিরিক্ত ধুলার কারণে মানুষের ফুসফুসজনিত জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।আর প্রভাবশালী দাপুটে ব্যক্তিরা এসব মাটি সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।ফলে এ রাস্তায় মাটি বহনকারী ড্রাম ট্রাকের ধুলায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, বর্তমানে উপজেলার জাটীগ্রাম, মহিষারঘোপ,দরুণা,বেজীডাঙ্গা,গাজীপুর
সহ উপজেলার প্রায় গ্রামেই চলছে ফসলী জমিতে পুকুর খননের কাজ।ফসলী জমির শ্রেণি পরিবর্তন না করেই তারা ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করে ড্রামট্রাকে করে সড়কগুলো দিয়ে মাটি নিয়ে যায়।এতে সড়কে মাটি পড়ে ও খানাখন্দে ধুলায় অতিষ্ট সাধারণ জনগণ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন গ্রামে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে পুকুর খনন ও ইট ভাটায় মাটি সরবরাহ করা হয়। তাই প্রতিদিন মাটিবোঝাই ট্রাক ওই সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াত করে। ড্রামট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে ধুলোবালি উড়ে রাস্তার পাশে থাকা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির ভিতরে ঢুকে আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বিছানা,খাবার জিনিসপত্রেও ধুলায় ভরে একাকার হয়ে যায়। সড়কের পাশের গাছপালাও ধূসর হয়ে গেছে।

উপজেলার কয়েকজন ব্যক্তি জানায়, নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হয়।ধুলার হাত থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

শীতের এই শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।তাছাড়া স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা পড়েছেন বেকায়দায়।ধুলোর কারণে ওই সড়কের পাশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্ন ঘটছে।যার ফলে পরিবেশ অসহনীয় পর্যায় চলে গেছে বলে দাবী স্থানীয়দের।

স্থানীয় কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, “বেপরোয়া গতিতে মাটিবাহী ড্রামট্রাক চলাচলের কারনে আমাদের চোখে মুখে ধূলা-বালু ঢুকে চোখ দিয়ে পানি পড়ে।ধুলোর জন্য রাস্তা দিয়ে হেঁটে স্কুলে যেতে কষ্ট হয়”।

কয়েকজন ভ্যান চালাক বলেন, “মাটির ট্রাক চালকরা তাদের দখলে নিয়েছে রাস্তা।আমাদের ভয়ে ভয়ে ভ্যান চালাতে হয়,কখন ঘটে যায় দূর্ঘটনা”।

উপজেলার জাটীগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী সজিব মিয়া জানান, “সকাল টু সন্ধ্যা মাটি বহনকৃত এসকল ট্রাক দোকানের সামনে দিয়ে চলাচল করে।এতে ধূলা জমে দোকানের সব মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে”।

সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রবিউল মিয়া জানায়, “আমার ওয়ার্ডে একটি কাঁচা রাস্তায় সবেমাত্র ইটের সলিং দিয়েছি।কিন্তু সেই নতুন রাস্তায় দিনের পর দিন অ মাটি বোঝাই ট্রাক চলাচল করায় রাস্তার সব ইট ঙেঙ্গে এলোমেলো হয়ে গেছে”।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়ন্তী রূপা রায় বলেন, “ফসলি জমিতে পুকুর খনন ও ড্রামট্রাক চলাচলের বিরুদ্ধে আইন রয়েছে।এদের সম্পর্কে তথ্য পেলে অভিযান চালানো হবে”।