ক্রীড়া সংগঠকদের বিদেশ থেকে হুমকি দেন সাঈদ

ক্যাসিনো-কাণ্ডের অন্যতম হোতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ বিদেশ থেকে হুমকি দিচ্ছেন ক্রীড়া সংগঠকদের। সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন বলেছেন, ক্যাসিনো বাণিজ্যের পেছনে রয়েছেন সাঈদও।

সাঈদ বিদেশে পালিয়েছেন। সেখান থেকে মোহামেডান ও আরামবাগের কয়েকজন ক্রীড়া সংগঠককে ফোনে হুমকি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া সাঈদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরামবাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ক্লাবটি দখল করে নিয়েছিল মতিঝিলপাড়ার পানি বিক্রি করা এই ছিঁচকে মাস্তান। পরে ক্লাবটিকে ক্যাসিনো জুয়ার আখড়ায় পরিণত করে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছে সাঈদ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। সিলগালা করে দিয়েছে ক্লাবটি। আমরা ক্লাবে ক্রীড়া পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। এ খবর পেয়ে সাঈদ দেশের বাইরে থেকে আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তার ক্যাডাররা ক্লাবের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, সাঈদের পোষা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে ক্লাবপাড়ায় ক্রীড়া পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।’

গত হকি ফেডারেশনের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রখ্যাত হকি খেলোয়াড় আবদুস সাদেকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মতিঝিল ক্লাবপাড়ার এই ভুইফোঁর। ওই নির্বাচনে সাঈদের টাকার জোরে ভেসে যান আবদুস সাদেকের মতো প্রথিতযশা সংগঠক। নির্বাচনে যুবলীগের গডফাদার থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাউন্সিলর ও একশ্রেণির হকি সংগঠক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাঈদের কাছ থেকে। নির্বাচনে সাঈদের প্যানেলের সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছেন আবদুর রশিদ শিকদার। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর হকি ফেডারেশনের প্যাডে গুণকীর্তন করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন শিকদার।

ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভা ছাড়াই নিজের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে তিনি ‘সাঈদ পলাতক নন’ উল্লেখ করেছিলেন। রোববার সেই বক্তব্য থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছেন হকি ফেডারেশনের এই সহ-সভাপতি। একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে আলাপকালে ইনিয়ে-বিনিয়ে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন।

তার কথা, ‘সাঈদের ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।’ ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর আরামবাগ ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা চালু করেন সাঈদ। এছাড়া আরও চারটি ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা ছিল সাঈদের নিয়ন্ত্রণে। তাকে সবাই ‘ক্যাসিনো সাঈদ’ নামে চেনেন।

-যুগান্তর

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর