বুড়িগঙ্গার দুই পাড় দখলমুক্ত করতে তৃতীয় ধাপে বিআইডাব্লিউটিএর অভিযান

রাজধানী

আকরাম হোসেন নাঈম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বুড়িগঙ্গা নদীর দুই পাড় দখলমুক্ত করতে তৃতীয় ধাপে ৮ম দিনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে বিআইডব্লিউটিএ। বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে কামরাঙিরচরের নবাব চর, মুন্সিহাটি, ঝাউচর এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালায় সংস্থাটি।

অভিযানে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের শ্বশুর বাড়ির তিন তলা ভবন ও একটি নির্মানাধিন কারখানা সহ ছোট-বড় প্রায় শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।সকালে উচ্ছেদ অভিযানে বেশ গতি থাকলেও দুপুরের দিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের শ্বশুর বাড়ির তৃতীয়তলা সাদা একটি ভবনের কাছে এসে হঠাৎ থেমে যায় অভিযানের গতি। বিআইডাব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে ওই বাড়িটটি ভাঙ্গাস্থগিত করা হয়।

এসময় বাড়ির ভিতর থেকে মোশাররফ হোসেন কাজল বেরিয়ে আসলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তররে তিনি বলেন, এটি তার শ্বশুরের বাড়ি। বাড়িটি তিনটি রেকর্ডয়ী সুত্রে মালিক তার শ্বশুর। সরকারের নদী উদ্ধারে কর্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এরপরও যদি সরকারের প্রয়োজন হয় তবে নিজ উদ্যোগে বাড়িটি ভেঙ্গে দিবেন তারা।

পরে বিআইডাব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট মোস্তাফিজুর রহমানকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখানে কোন চাপ নেই তাদের। এখনও সময় রয়েছে। অপেক্ষা করুন আপনারা। এর কিছুক্ষণ পর মোশাররফ হোসেন কজলের শ্বশুর বাড়িটির মাধ্যমে ফের শুরু হয় উচ্ছেদ কার্যক্রম।

এ বিষয়ে বিআইডাব্লিউটিএ যুগ্ম পরিচালক (ঢাকা নদী বন্দর) এ. কে. এম আরিফ উদ্দিন বলেন, নদীর পাড়ে বাড়ি নিমার্নে বিআইডাব্লিউটিএর অনাপত্তিপত্র প্রয়োজন হয়। যা তারা দেখাতে পারেনি। পাশাপাশি বহুতল ভবন নিমার্নের ক্ষেত্রে রাজউকেরও অনুমিতে লাগে। বাড়ি নিমার্নে সেই অনুমোদনও নেয়নি তারা। এদিকে বরাবরে মত উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এর আগ সকালে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন নৌ পরিবহন সচিব মোঃ আব্দুস সামাদ।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযানে কোন সমন্বয় হীনতা নেই। তবে বাস্তবতার কারনে হয়তো সব অংশে এক সাথে কাজ করতে পারছেনা। এর আাগে গত ৭দিন প্রায় সাড়ে ১২শ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডাব্লিউটিএ।