টেকনাফে মনোনয়নের দাবীতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের বিক্ষোভ!

চট্টগ্রাম

খান মাহমুদ আইউব, কক্সবাজার প্রতিনিধি: আগামী ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলায় একযোগে নির্বাচন অনুষ্টিত হওয়ার কথা রয়েছে।প্রতিটি উপজেলায় আ.লীগ দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে দলীয় কোন্দলের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

একইভাবে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি।এই নিয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলম চেয়ারম্যানকে দলীয় মনোনয়নের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথ সভা করতে রাস্তায় নেমে পড়েছে।

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া,পেকুয়া,মহেষখালী,কুতুবদিয়া,কক্সবাজার সদর,রামু,উখিয়া,টেকনাফ উপজেলায় দলীয় প্রার্থি চূড়ান্ত করার বিষয়টি এখনো অনেকটা ধোঁয়াসার মধ্যে রয়েছে।প্রতিটি উপজেলায় দীর্ঘদিনের দলীয় অন্তকোন্দল নির্বাচনের আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।দলীয় ও ভোটারদের সমর্থন থাকার পরেও দলীয় যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের মনোনয়নের জন্য চূড়ান্ত করতে গিয়েই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে এমনটি অভিযোগ তৃমূল নেতাদের।বিরাজমান কোন্দলের কারনে টেকনাফ উপজেলা আ.লীগ নেতা কর্মীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পরেও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এমনকি জেলা আ.লীগ সমন্বয় করেও সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেনি বলে জানিয়েছে দলটির দায়িত্বশীল সূত্র।দিন যত গড়াচ্ছে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে কিন্তু প্রতিটি উপজেলায় এসব বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে আধৌ সমাধানে পৌছাতে না পারার ফলে অধিকাংশ দলীয় সাধারন নেতাকর্মীরা জেলা আ.লীগের কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষুব্দ বলে জানাগেছে।

এদিকে প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও সম্প্রতি টেকনাফ উপজেলায় সাবেক সাংসদ,উপজেলা আ.লীগ সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, সাধারন সম্পাদক হাজী নূরুল বশর,উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ,উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আলম,সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আ.লীগ নেতা ইউনুছ বাঙ্গালী ও ইসমাঈল ‘সিআইপি’ সহ মোট ৬ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার শীর্ষ দলীয় নেতাদের দাবী,অপর চার প্রার্থীকে পেছনে ফেলে নূরুল আলম ও জাফর আহমদ দুজনের মধ্যে মনোনয়ন যুদ্ধ অনেকটা প্রকাশ্য।

কারন হিসেবে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান বিগত সময়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তনে পর বিএনপির রাজনীতির থেকে অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মত স্থানীয় প্রভাবশালী শীর্ষ এক আ.লীগ নেতার আশির্বাদপুষ্ট হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।তখন থেকে বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখাদেয়।পরবর্তিতে দীর্ঘ সময়ে ছাত্রলীগ,যুবলীগ, আওয়ামীলীগ সহ অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের মাঝে নিজের অবস্থান সৃষ্টি করতে ব্যার্থ হয়েছেন বলে দাবী সূত্রটির।

তৃনমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এবং বর্তমান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সাবেক সদর ইউপির চেয়ারম্যান নূরুল আলমে কে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবীতে গোটা উপজেলা ছাত্রলীগ,উপজেলা যুবলীগের সমস্ত ইউনিট সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক হাজার নেতাকর্মী,সমর্থকদের জনস্রোত মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ মিছিল করে।মিছিলটি পৌর শহরের প্রাধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে শাপলা চত্বর এসে পথসভায় মিলিত হয়।পথসভায় উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বিগত জোট সরকারের বিশ্বস্থ এজেন্ট বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক আওয়ামী পরিবারের নেতা কর্মীদের জেল জুলুম এবং নির্যাতনের নির্মম বর্ননা তুলে ধরেন।সুযোগ সন্ধানীদের বয়কট করে ত্যাগী-নির্যাতিত ও তৃনমূলে মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী সৈনিক,উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নূরুল আলম চেয়ারম্যানকে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি ত্যাগী ও অবহেলিত দলীয় নেতা কর্মীদের অধিকার আদায়ে কাজ করার লক্ষ্যে,উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিতে রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।