প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে মানববন্ধন

চট্টগ্রাম

আবদুল করিম, লোহাগাড়া প্রতিনিধি: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় “লোহাগাড়ায় ইউএনও এর বিরুদ্ধে মাছ লুটের অভিযোগ” শিরোনামে একটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয় লোহাগাড়া ইউএনও আবু আসলাম প্রায় এক লক্ষ টাকার মাছ লুট করে।

ইউএনও আবু আসলাম মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন -লোহাগাড়া উপজেলাধীন আধুনগর মৌজায় আর এস খতিয়ান নং ১, দাগ নং ২৩৩০,২৩৩১ একটি সরকারি সম্পত্তি।উক্ত সম্পত্তি কারো নামে বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি।তাই তা কিছুতেই কোন ব্যক্তির মালিকানাধীন হতে পারে না।তবে বি এস জরিপ চলাকালীল একটি অসাধু ভূমিদস্যু চক্র উক্ত ভূমি ভূয়া বন্দোবস্তি দলিল(যা উপযুক্ত আদালত কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হয়) সৃজন করে ব্যক্তির নামে খতিয়ানে রেকর্ড হয় এবং তৎপরবর্তীতে বিভিন্ন অবৈধ দলিল সৃজন করে মালিকানা দাবি করে।

বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথে সরকার উক্ত ভূয়া খতিয়ান বাতিল করার জন্য বিধিমোতাবেক উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করে।অসাধুচক্র মামলায় পরাজিত হওয়ার ভয়ে আইনের অপব্যবহার করে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট করে।যে কেউ হাইকোর্টে রীট করতে পারে যা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। হাইকোর্ট রীটের আড়ালে অসাধুচক্র সারাদেশে এভাবে প্রচুর সরকারি সম্পত্তি বেদখল করছে।কিন্তু হাইকোর্ট রীট মামলা কখনো মালিকানা নির্ধারণ করে না।এতে স্বত্ব বিলোপ হয় না।

এই জমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এবং তা অদ্যাবধি দখল ও নিয়ন্ত্রণে আছে।যথারীতি উক্ত ভূমি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা স্থানীয় মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লীকে দেখভাল করার দায়িত্ব দেন।উক্ত পুকুরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছর মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।বর্তমানে মাছ মারা যাওয়ায় পুকুরে জাল দেয়া জরুরি হওয়ায় জেলেদের মাধ্যমে জাল দেয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং তা থেকে জেলেদের মজুরি বাবদ কিছু মাছ দেয়া হয় এবং অবশিষ্ট মাছ স্থানীয় ৬ টি এতিমখানা যথা ১.আধুনগর ইসলামিয়া মাদ্রাসা ২.আকতারিয়াপাড়া এতিমখানা ৩.খিল্লা পুকুরপাড় আধুনগর এতিমখানা ৪.আকবরপাড়া এতিমখানা ৫.যে এম সিকদারপাড়া এতিমখানা ৬.বন পুকুরপাড় এতিমখানা,চুনতি এবং আধুনগর মসজিদে আসা তাবলিগে আদা মুসল্লীদের বিতরণ করা হয়।

এদিকে সৎ, নিষ্ঠাবান, পরোপকারী সহজ সরল সাদা মনের মানুষ লোহাগাড়ার ইউএনও আবু আসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার প্রতিবাদে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে লোহাগাড়া উপজেলার সামনে তথা কথিত সাংবাদিক, ভূমি দস্যু সেলিমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে লোহাগাড়ার সচেতন মহল।

উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বর্তমান আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মিয়া, লোহাগাড়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুচ্ছাফা চৌধুরী, পদুয়া ইউপি চেয়ারম্যান জহির, লোহাগাড়া ব্রিকফিল্ড সমিতির সভাপতি শাহাব উদ্দিন, মাস্টার এসকে শামসুল আলম, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ নাজিম উদ্দিন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন লোহাগাড়া শাখার সভাপতি অধ্যাপক হামিদুর রহমান, সহ-সভাপতি শিব রঞ্জন পাল সহ প্রমুখ।

এই সময় বক্তারা বলেন একটি স্বার্থান্বেষীদের মদদে সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে লোহাগাড়ার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। ভূমি দস্যু সাংবাদিক সেলিম কে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।