চিপাচাপা গলি ও অপ্রশস্ত সড়কের কারণেই জহুর হকার মার্কেটে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করলেন স্থানীয় জনগণ ও দোকানদারগণ।
শনিবার ভোরে নগরীর কোতোয়ালী থানার শাহ জালালাবাদ মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত হলে তা পাশের পৌর জহুর হকার্স মার্কেটেও ছড়িয়ে প্রায় একশ দোকান ও গুদামের মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আবুল কালাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আদালত ভবনের সীমানা দেয়াল ঘেঁষে গড়ে উঠা টিনশেডের আধাপাকা শাহ জালালাবাদ মার্কেট ও পৌর জহুর হর্কাস মার্কেটের মাঝে শুধু মাত্র একটি দেয়াল রয়েছে।
একটি মাত্র দেয়ালের মাঝে বিভক্ত দুই মার্কেটের প্রত্যেকটি দোকান একটির সাথে আরেকটি লাগানো। একটির গা ঘেঁষে থাকা আরেকটি দোকানের সবগুলো দুই তলার ছাদ টিনের। আর টিনের নিচে আছে বোর্ড। তাই আগুন এক দোকান হতে আরেক দোকানে দ্রুত ছড়িয়ে পরেছে।”
ব্যবসায়ী আবুল কালামের সাথে দুই মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরাও একই কারণ স্বীকার করে বলেছেন, মার্কেটটির গলিগুলোর প্রশস্ততা ছয় থেকে আট ফুট। দুই মার্কেটেরই গঠন আধাপাকা কাঠামোর ওপর গঠিত এবং রয়েছে দুইতলা গুদাম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেসবের উপরের অংশ টিনের ছাউনি দিয়ে বানানো।
শনিবার ভোর পৌনে চারটায় লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের ১৯টি গাড়ি নিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে।
শনিবার(১৯ অক্টোবর) আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দীন বলেন, ‘ একটি দোকানের সাথে ঘেঁষাঘেঁষি করে আরেকটি দোকান হওয়াতে ও চিপাচাপা গলি হওয়াতে আমাদের গাড়িগুলো ঢোকার সুযোগ ছিলনা।
এছাড়া প্রায় সব কটি দোকানের কাঠামো অতি দুর্বল ও অননুমোদিত। নিচে সেমিপাকা, ওপরে টিনের দোতলা, কাঠের কাঠামো, এলোমেলো বৈদ্যুতিক লাইন সহ রয়েছে নানান ঝুঁকিপূর্ণ জটিলতা। সেই সাথে সহজে কোন গাড়ি ঢুকার জন্য নেই পর্যাপ্ত পরিমাণের রাস্তা বা গলি।
যার দরুন মার্কেটের পার্শ্ববর্তী অন্য ছাদে দারিয়ে পানি ছিটাতে হয়েছে। আর পার্শ্ববর্তী ছাদ হতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আমাদের যেমন বাড়তি সময় লেগেছে। তেমনি লেগেছে প্রয়োজানিতিরিক্ত পানি। ১৯টি গাড়িতে থাকা পানি ও সংলগ্ন দুটি মসজিদের ট্যাংক হতে পানি সরবরাহের পরও অবশেষে লালদীঘি থেকে পানি এনে আগুন নেভাতে হয়।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে, অপু নামের এক ব্যবসায়ী জানান, বৃহস্পতিবার তিনি শীতের পোশাকসহ বিভিন্ন রকমের দুই টন কাপড় তুলেছিলেন, এর প্রায় সবই পুড়ে গেছে।
মোহাম্মদ সোহেল নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, দেড় টন টি শার্টের কাপড় তুলেছিলাম। সেগুলো সোমবার ডেলিভারি দেওয়ার কথা। সব শেষ হয়ে গেল।
পৌর জহুর মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন বলেন, চলতি বছরের শুরুতে ফায়ার সার্ভিস নগরীর যে ৪৩টি বিপণিকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল তার মধ্যে জহুর হকার্স মার্কেটও আছে। এখানে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি ঢোকানো যায় না এবং আমাদের কাঠামোগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও আমাদের কাঠামোগত ত্রুটি ও দুর্বলতার দরুন আগুন নেভাতে সময় লেগেছে এবং অধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জহুর মার্কেটের ২৫টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে শাহ জালালাবাদ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাজী আবদুল আজিজ বলেন, শাজালালাবাদ মার্কেটের ৮০-৮৫টি প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা মেয়র ও জেলা প্রশাসককে দিয়েছি।
বিভিন্ন ব্যবসায়ী, দোকানদার ও ব্যবসায়ী নেতা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন দ্রুত ছড়ার কারণ উল্লেখ করলেও আগুন লাগার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন কারণ কেহ বলতে পারেননি। তাঁরা তদন্ত কমিটি গঠন করে আগুন লাগার কারণ ও সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বের করা হবে বলে জানান।
বার্তাবাজার/এম.কে