কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিধবা বাতা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাকুন্দিয়া পৌরসভার শ্রীরামদী গ্রামের হতদরিদ্রদের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করেছেন পার্শ্ববর্তী আনোয়ারখালী গ্রামের উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও পৌর কমিশনার শফিকুল ইসলাম আরিফ।
ভূক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ৩১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে জন প্রতি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন শফিকুল ইসলাম আরিফ। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় আরিফ কমিশনারের কাছে টাকা ফেরত চাইলে ‘দেই-দিচ্ছি’ বলে ঘুরাচ্ছেন। এখনো টাকা ফেরত দেননি।
শ্রীরামদী গ্রামের আরমান জানান, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে তার একটি মিটারের জন্য দেড় হাজার টাকা নিয়েছেন যুবলীগের নেতা আরিফ। পরে স্হানীয় একজন অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ করে আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের ব্যাবস্থা করেন। খুটি এসেছে মাত্র।
একই গ্রামের ভূক্তভোগী আলাউদ্দিন, সোহাগ, লাল মিয়া ও হাসেমসহ কয়েকজন জানান, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে ‘দেই-দিচ্ছি’ বলে ঘুরাচ্ছে। তাদের টাকাগুলো উদ্ধারের জন্য আমরা ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ভূক্তভোগীরা বলেন, যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তাদের মধ্য অনেকেই হতদরিদ্র। অন্যের জমিতে দিনমুজুরি করে সংসার চালায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতার নাম করে শ্রীরামদী গ্রামের মৃত ইসলাম উদ্দিন মেম্বারের স্ত্রী হালিমা খাতুনের কাছ থেকে দুই হাজার, মৃত ছুরাব উদ্দিনের স্ত্রী হাবিয়ার কাছ থেকে দুই নিয়ে কার্ড করে দেন কমিশনার শুধু তাই নয় সরাসরি সঞ্চালন লাইন থেকে অবৈধ ভাবে সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ পোল্ট্রি ফার্ম পরিচানার জন্য ৮ সেপ্টেম্বর লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম আরিফ বলেন,বিদ্যুতের এক টাকাও আমি নেইনি, আপ্পায়নের খরচ হিসেবে কিশোরঞ্জ জোনাল অফিসের কর্মচারী জসিম এ টাকা নিয়েছেন। সরকারি লাইন থেকে বিদ্যুৎ নামিয়ে ফার্ম চালানোর বিষয়টি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আর আমি কোনো বিধবার ভাতার কার্ড দিয়ে টাকা দেইনি।
পাকুন্দিয়া পৌর মেয়র আক্তারুজ্জামান খোকন বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই, যদি কারো কাছ থেকে অনৈতিক ভাবে কোন টাকা নিয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যাবস্তা নিব।
কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হোসেনপুর জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক আবদুর রহমান জানান, মজিববর্ষে ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌছে দেওয়া লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জ পল্লি বিদ্যুত। তারই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য শ্রীরামদী গ্রামের তালিকা এই অফিসে রয়েছে এবং খুটি চলে গেছে খুব সংযোগ পাবে গ্রাহকরা। তবে টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়ে জানানেই। আমি শ্রীরামদী গিয়ে গ্রাহকদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা নিব।
বার্তা বাজার/এস.আর