সাটুরিয়ায় ডাকবাংলোতে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

অপরাধ ও দুর্নীতি ঢাকা

মো: আজাদ হোসেন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ডাকবাংলোতে আটকে রেখে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে। এ সময় পাশের আরেকটি রুমে আটকে রাখা হয় তরুণীর খালাকে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন- সাটুরিয়া থানার উপ-পরিদর্শ (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলাম। তবে তারা ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, সাভারের আশুলিয়া এলাকার তার এক খালা সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দারের কাছে প্রায় ৩ লাখ টাকা পাবেন। পাওনা টাকা আদায়ে বুধবার বিকেলে ওই খালা তাকে নিয়ে সাটুরিয়া থানায় যান।

এ সময় এসআই সেকেন্দার তাদের দু’জনকে নিয়ে থানা সংলগ্ন সাটুরিয়া ডাকবাংলোতে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে থানার এএসআই মাজহারুল ইসলাম হাজির হন। তরুণী ও তার খালাকে আলাদা রুমে আটকে রাখে তারা। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা তরুণীকে ইয়াবা সেবন করিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ২ রাত ২ দিন পর শুক্রবার সকালে তরুণী ও তার খালার হাতে ৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে সেকেন্দার তাদের সাটুরিয়া থেকে চলে যেতে বলেন। ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে তরুণীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয় বলেও লিখিত অভিযোগে উলে­খ করা হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী সাভারে ফিরে প্রথমে তার এক পরিচিত সাংবাদিকের কাছে এ ঘটনা জানান। সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে মৌখিকভাবে এ ঘটনা জানার পর মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার শনিবার রাতেই অভিযুক্ত এসআই সেকেন্দার ও মাহারুলকে থানা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

রোববার ওই তরুণী মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন এবং দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।
সাটুরিয়া থানার ওসি আমিনুর ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে পুলিশ সুপার ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাদের কে সাটুরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করেছেন।
অভিযুক্ত এসআই সেকেন্দার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আশুলিয়া এলাকার রহিমা বেগম তার কাছে পাওনা টাকার জন্য সাটুরিয়ায় এসেছিলেন। রহিমাকে কিছু টাকাও তিনি দিয়েছেন। তবে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তাহলে কেন তাকে প্রত্যাহার করা হলো এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না।’

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামিম রবিবার রাতে বলেন, এঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলকে প্রধান করে একটি তদন্ত টিম করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনা প্রমাণিত হলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ সদস্য হিসেবে তাদেরকে কোন ছাড় দেয়া হবে না।