শুক নদীতে মাছ ধরার উৎসব

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঠাকুরগাঁওয়ের শুক নদীর তীরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় হাজার হাজার মানুষ খইয়া জাল, পলো ও মাছ রাখার পাত্র (খলই) নিয়ে ব্যস্ত। আজ শনিবার সকালে ওই এলাকায় নির্মিত বাঁধের গেট খুল দেয়ার পর এমন মাছ ধরার দৃশ্য চোখে পড়ে। আর বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে মাছ শিকারীদের উৎসাহ দিচ্ছেন বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের স্বজনেরা।

মাছ ধরার জন্য গ্রাম ও শহরের শত শত মানুষ ব্যস্ত। নারী ও শিশুসহ বৃদ্ধরাও রয়েছে এ দলে। সবার হাতে জাল। লাফিজাল দিয়ে সাধ্যমত মাছ শিকার করছেন সকলেই। শুক নদীতে মাছ ধরার উৎসবে পরিণত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ১৯৫১ সালে শুরু হয় এই বাধ নির্মানের কাজ। পরে ১৯৫৭ সালের দিকে শেষ হয়ে ১৯৭৮ সালের দিকে সেচ কার্যক্রম শুরু করে। এরপর থেকেই শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষি জমির সেচসুবিধার জন্য সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সীমানায় শুক নদীতে বুড়ির বাঁধ নামের একটি জলকপাট নির্মাণ করা হয়।

এই জলকপাটে আটকে থাকা পানিতে প্রতিবছর জেলা মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে থাকেন। আর এ পোনাগুলো যাতে কেউ শিকার করে খেতে না পারেন দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ। এরপর থেকেই প্রতিবার শীতের শুরুতেই এ মাছ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরার উৎসব চলে আসছে।

সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়ন থেকে মাছ ধরতে আসা আবুল হাশেম জানান, গতকাল রাতেই এখানে এসেছি। শুনেছিলাম এখানে মাছ মারা হয়। প্রতিবার নাকি এই উৎসবটা হয়। তাই এবারে এসেছি। পুটি মাছ, গুড়া মাছ, রুই মাছ সহ বিভিন্ন প্রকারের মাছ জালে আটকা পড়েছে। আমার মতো আরো অনেকেই রাতেই এসেছেন এখানে।

ঠাকুরগাঁও আকচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মণ জানান, প্রতিবারের ন্যায় এবারও আমাদের এই ইউনিয়নে মাছ ধরার উৎসবটি করা হয়েছে। এখানে শুধু ইউনিয়ন বাসীরায় নয়। ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই এসেছেন। কেউ মাছ ধরতে আসে কেউবা আসে মাছ কিনতে।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর