সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাজধানীর অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য। এই অনৈতিক বাণিজ্যের বিস্তৃতি খুঁজতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়ে টেন্ডার মোঘলখ্যাত জি কে শামীম।
বিপুল পরিমাণ অর্থ, মাদক ও অস্ত্রসহ আটক এই ঠিকাদারের মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে কাজ পেতে শত শত কোটি টাকা কমিশন বাণিজ্যের কথা। কিভাবে হাজার কোটি টাকা পেলো শামীম, কারা এই চক্রে জড়িত সেসব তথ্য-তালাশ করছে গোয়েন্দারা। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের গোয়েন্দারাও তৎপর।
চলতি অর্থ বছরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে সরকারের মোট উন্নয়ন বরাদ্দ ৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে যা ছিলো ৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। এই সংস্থায় নিবন্ধিত ছোট বড় ঠিকাদার আছে প্রায় পাঁচ হাজার। সরলভাবে চিন্তা করলে দুই অর্থবছরে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার কাজ থেকে কমবেশি গড়ে প্রত্যেকের দুই কোটি টাকার কাজ পাওয়ার কথা। কিন্তু এদের মধ্যে একজনই যদি ৫ হাজার ১০৭ কোটি টাকার কাজের ঠিকাদারি নেন, তাহলেও সেখানে কি বাস্তবতা ছিলো? গণপূর্ত বিভাগের এসব অবাস্তব কর্মকাণ্ড বা দরপত্রে অস্বচ্ছতার অভিযোগ আছে ভুরিভুরি।
গণপূর্ত বিভাগের জন্য গত কয়েক বছরে গড় উন্নয়ন বরাদ্দ ছিলো ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা। শিক্ষা ও রেল মন্ত্রণালয় ছাড়া সরকারের অন্যান্য বিভাগের পূর্ত কাজ এই সংস্থাটির মধ্যমেই বাস্তবায়ন হয়। যা বছরে ২০-২৫ হাজার কোটি টাকা। গণমাধ্যমে খবর এসেছে আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীম দুই প্রধান প্রকৌশলীকেই কশিমন দিয়েছেন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। আলোচ্য বিষয়গুলো নিজের সময়ের নয় বলে এড়িয়ে যান বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন।
র্যাবের অভিযানে আটক আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গী ছিলো পূর্ত বিভাগের আরো কয়েকজন আলোচিত প্রকৌশলী। টেন্ডারবাজির বিপুল অর্থ যাদের মাধ্যমে বন্টন হতো। এদের একজন উৎপল কুমার দে। সদ্য ওএসডি হওয়া এই অতিরিক্ত প্রকৌশলীকে দায়িত্বকালীন সময়ে কয়েক দফায় কক্ষে গিয়েও পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালে উত্তর আসে তিনি কথা বলতে অপারগ।
সূত্র: বৈশাখী টেলিভিশন
বার্তাবাজার/কে.জে.পি