প্রতিবেশীর সাথে বিরোধের জেরেই শিশু তুহিনকে হত্যা

প্রতিবেশীর সঙ্গে দেড়যুগেরও বেশি বিরোধ। তিনটি হত্যাসহ দুপক্ষের মধ্যে পনেরটি পাল্টাপাল্টি মামলা। পুলিশ বলছে, সুনামগঞ্জের শিশু তুহিন হত্যা এসবেরই ধারাবাহিকতা। অন্যতম কারণ গ্রাম্য বিরোধ। উদ্দ্যেশ্য- প্রতিপক্ষকে নতুন মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা বা ছক।

প্রতিবেশীর সঙ্গে দেড়যুগেরও বেশি বিরোধ। তিনটি হত্যাসহ দুপক্ষের মধ্যে পনেরটি পাল্টাপাল্টি মামলা। পুলিশ বলছে, সুনামগঞ্জের শিশু তুহিন হত্যা এসবেরই ধারাবাহিকতা। অন্যতম কারণ গ্রাম্য বিরোধ। উদ্দ্যেশ্য- প্রতিপক্ষকে নতুন মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা বা ছক।

তুহিনের বিভৎস মরদেহটি যখন ঝুলছিল। তখন পেটে বিদ্ধ ছুরিটিতে লেখা ছিল দুটি নাম ‘সালাতুল’ ও ‘সোলেমান’। পুলিশ বলছে তদন্তের শুরু নামদুটি সামনে রেখেই। তথ্য পাওয়া যায় সালাতুল ও সোলেমান তুহিনের বাবা বছিরের পরিবারের প্রতিপক্ষ, বিরোধ দীর্ঘদিনের।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ‘বাচ্চার বাবা-চাচা অন্যরা মিলে জবাই করছে। ওই ছুরি দুটি যাতে প্রতিপক্ষের নাম লেখা ছিল। সেই ছুরি তার পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে গাছে টানিয়ে রেখেছে।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেও মেলে নানান তথ্য। বছির- ও সালাতুল সোলেমানদের বিরোধের শুরু ২০০১ সালে একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে। আর গত ১৮ বছর ধরে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও সরকারী ডোবা লিজ নেয়া-দেয়াকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যা মামলাসহ ১০-১২টি পাল্টাপাল্ট মামলা।

২০১০ সালে প্রতিপক্ষ আনোয়ার মিয়া তুহিনের বাবা বছিরের পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে। পরে ময়নাদন্তে দেখা যায় যে ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয় সেটি আসলে হত্যাকান্ডই ছিল না। গ্রামের মানুষ বেশ কয়েকবার এসব বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করে ব্যার্থও হয়।

পরে ২০১৫ সালে ডোবা ইজারা নিয়ে আবারো সংঘর্ষ। ওই বছরের ৮ই অক্টোবর সন্ধায় প্রতিপক্ষের হামলায় মারা যান বছিরের বোনের মেয়ে। এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেনসহ তার দলের লোকজন জেলও খাটেন।

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের কেজাউরা গ্রামে এ ধরনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়া সেন গুপ্তা। তবে পুলিশ বলছে এসব অপরাধ ঠেকাতে কাজ করছেন তারা। সুনামগঞ্জ দুই আসনের সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা বলেন, ‘আমি অত্যন্ত মর্মাহত, দুঃখিত, লজ্জিত এমন একটি বিভৎস নির্মম কান্ড দেখে। এ ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক শান্তি হলে, আমি মনে করি কখনও আর এমন নির্মম হত্যাকান্ড সংগঠিত হবে না।’

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান আরও জানান, ‘এ মামলায় যেন দৃষ্টান্ত মূলক শান্তি হয়, সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তাই করা হবে। পুলিশ বলছে শিশু তুহিন হত্যার মোটিভ অনেকটা পরিষ্কার।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর