প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য কমানোর দাবিতে কর্মবিরতির শেষদিন

যশোর জেলার সহস্রাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য কমানোর দাবিতে কর্মবিরতি চলছে।এর মধ্যে গতকাল বুধবার বেলা একটা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক মডেল টেস্ট (নির্বাচনী)পরীক্ষা শুরু হয়েছে।তবে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে পাঠদান না হওয়ার কারনে।কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার দাবিতে শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে এ সংগ্রাম ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।এর আগে অর্থমন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়।

কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের প্রতিবাদে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেয়। কর্মসূচি অনুযায়ী গত সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা ও গতকাল বুধবার অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা। আজ বৃহস্পতিবার(১৭ই অক্টোবর) পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের মধ্য দিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি শেষ হচ্ছে।এ বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার আগ মুহূর্তে পাঠদান বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে।এ ছাড়া পাঠদানে ধারাবাহিকতা না থাকায় লেখাপড়ায়ও শিক্ষার্থীদের মনোনিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ যশোর জেলা শাখার সদস্যসচিব গাজী শহিদুল ইসলামেরর কাছে এ বিষয়ে জানতে চায়লে তিনি বলেন, ‘পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে,সেটা আমরা অস্বীকার করি না।

তবে একই যোগ্যতাসম্পন্ন হয়েও দেশের অন্য সরকারি বিভাগের কর্মকর্তাদের তুলনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বেতন-ভাতার চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।যে কারণে আন্দোলনে না গিয়ে আমাদের কোনো উপায়ও নেই।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।কিন্তু সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন,কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা,ভূমি বিভাগের সহকারী ভূমি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত ও পেশাগত প্রশিক্ষণ একই হওয়া সত্ত্বেও সহকারী শিক্ষকদের বেতন হয় তাঁদের পাঁচ ধাপ নিচে।এই বৈষম্য বিলোপ করার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও আমাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।যার প্রতিবাদ সরুপ প্রাথমিকভাবে চার দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।দাবি আদায় না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এদিকে কয়েকজন শিক্ষক নেতার কাছে জানতে চায়লে তারা বলেন, গ্রেড বৈষম্য কমানোর দাবি দীর্ঘদিনের।সরকার বারবার এ দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে অঙ্গীকার করেন।শিক্ষক নেতারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর