বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১২৯তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীলতায় বিশ্বাসী সাংবাদিক সংগঠন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইজির স্মৃতি বিজড়িত আখড়াবাড়ীতে অনুষ্ঠিত লালন মেলা পরিদর্শন করেছেন।
বুধবার বিকেলে লালন স্মরণোৎসবের উদ্বোধনী দিনে ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ শামীমের নেতৃত্বে তারা সাঁইজির স্মরণে অনুষ্ঠিত এ মেলা পরিদর্শন করেন।
এসময় তারা বাউল সম্রাটের ১২৯তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসবে যোগ দিতে আসা দেশী বিদেশী সাধু সন্ন্যাসীদের সাথে সাক্ষাৎ করে লালন সাঁইজির ভাবনা, চিন্তা, দর্শন নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি বাউলদের কন্ঠে নানা তত্ত্বধর্মী সংগীত উপভোগ করেন এবং বাউল সাধকদের জীবন যাপনের খন্ড চিত্র খুব কাছ থেকে অবলোকন করেন বলে জানিয়েছেন ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির দপ্তর সম্পাদক মুরতুজা হাসান নাহিদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, দপ্তর সম্পাদক মুরতুজা হাসান।
কার্যকরী সদস্য মোস্তাফিজ রাকিব, তাসনিমুল হাসান,মোয়াজ্জেম আদনান।
সদস্য মাথিয়া ঐশী,ফারহানা নওশীন,জীম আহমেদ, শাহীন আলম প্রমুখ।
এবিষয়ে ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ শামীম অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, লালন শাহ্ আজন্ম মানবতাবাদের গান গেয়ে গেছেন।মানবতাবোধকে সময় বড় করে দেখেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে সেকুলারিজম চর্চা করেছেন তাঁর সাথে এটির সঙ্গতি আছে। লালন সাঁইজির মহাত্মম গানের বাণী বহুমাত্রিক জ্যোতিরময় হয়ে আজকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।বাউল সম্রাট লালন সাঁই শুধু মাত্র মরমী সাধকই ছিলেন না তিনি ছিলেন মানব মুক্তি ও মানবতার প্রতিষ্ঠান। বাউল ফকিররা জাতের বিচার করেননি।
সবার উপর মানুষ সত্য এই বাণী মেনেছেন অন্তর দিয়ে। তাঁরা সর্বশ্রেণীর সর্বজাতির মিলনসেতু। মানবিক আবেগ তাঁদের কাছে সব থেকে মূল্যবান। তাই বাউল সম্রাট লালন সাঁইকে বুঝতে জানতে তাঁর সহজিয়া বানী সাধারণ মানুষের চিন্তা, চেতনায় ও মননে নিয়ে আসতে হবে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য আগামী ১৮ই অক্টোবর ৩দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এ লালন স্মরণোৎসবের সাঙ্গ হবে বলে জানা গেছে।