সরকারি হাসপাতালের রোগীকে দেয়া ওষুধে ছত্রাক

মেহেরপুরের সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের মাঝে বিতরণ করা বিনামূল্যের ওষুধে মিলেছে ছত্রাক। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে সরকারিভাবে দেয়া ওষুধে ধরেছে ছত্রাক। অথচ এই ওষুধের মেয়াদ রয়েছে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত। আর, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই এসব ওষুধ বিতরণ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীকে বিনামূল্যের ওষুধ দেয়া হয়। কিন্তু, ওষুধ খুলতেই তাতে দেখা যায় ছত্রাক এবং একটু চাপ দিলেই তা গলে যাচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে এমন মানহীন ওষুধ সরবরাহে ক্ষোভ জানায় রোগীর স্বজনেরা। ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, ওষুধের প্যাকেটের গায়ে মেয়াদ থাকলেও ওষুধে ছত্রাক দেখা যায়। সুস্থতার জন্য সেবা নিতে আমরা হাসপাতালে আসি। কিন্তু, হাসপাতালের মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেয়ায় সবাই খুব দুশ্চিন্তায় আছে।

এমন অভিযোগের পর গুদামে থাকা আরও ১৩ হাজার ট্যাবলেট পরীক্ষা করে দেখা যায়, সবগুলোর একই অবস্থা। পরে, এসব ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে সিএমএসডি থেকে ‘এস্টা কোম্পানির’ ৪৩ হাজার ক্লোপিডোগরেল এবং এসপিরিন ট্যাবলেট বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ওষুধের মেয়াদ আছে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত।

এ বিষয়ে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, ওষুধ যেভাবে এসেছে আমরা সেভাবেই বিতরণ করছি। আর ওষুধের যেহেতু মেয়াদ রয়েছে তাই আর আলাদা করে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।

সরকারি হাসপাতালে এমন মানহীন ওষুধ সরবরাহে ক্ষোভ জানিয়েছেন রোগীর স্বজনেরা ও সচেতন নাগরিক সমাজ। এসব ওষুধ সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ স্বীকার করে, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. এহসানুল কবির। তিনি জানান, এখন এ ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোর ডিপার্টমেন্টে (সিএমএসডি) ফেরত পাঠানো হবে।

হাসপাতালে এসব মানহীন ওষুধ বিতরণ বন্ধের পাশাপাশি ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষা করে গুদামজাত করার দাবি সবার।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর