ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ আ’লীগকে সম্মেলনের নির্দেশ

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশকে সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছে দলের হাই কমান্ড। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদকে ফোন করে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত রবিবার (১৩ অক্টোবর) দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন বলে সাদেক খান ও শাহে আলম দুজনই গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন।

এর আগে দলের তিন সহযোগী ও এক ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনকে সম্মেলনের নির্দেশ দেয়া হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে তারা সম্মেলনের নির্দেশ পেয়েছেন। এখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। আগামী ২৩ অক্টোবর ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করা হতে পারে। সম্মেলন নিয়ে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তাদের আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, দলীয় নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করছেন। আগামী ২৪ অক্টোবর কার্যনির্বাহী সংসদের সভা করে বর্ধিত সভার তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

তবে সাদেক ও শাহে আলম দুজনই আশা করছেন, সম্মেলনের তারিখ দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঠিক করে দেবেন।

আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির সব শাখার সম্মেলন করে কমিটি হালনাগাদ করার পরই কেন্দ্রের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে হবে। এজন্য দলটির সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের সম্মেলন ৬ নভেম্বর, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৬ নভেম্বর, যুবলীগের সম্মেলন ২৩ নভেম্বর ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিক লীগের সম্মেলন ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

তবে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগের কিছু নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ জুয়া ও মাদকে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেই কমিটি বাণিজ্য ও ক্ষেত্রবিশেষে অন্যের জমি ও সম্পত্তি দখল করার অভিযোগ রয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, অভিযুক্তদের আওয়ামী লীগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে সম্মেলনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের সরানো হবে বলে পরে সিদ্ধান্ত হয়।

২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দীর্ঘদিন পরও কমিটি দিতে না পারায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাককে দক্ষিণ এবং কর্নেল (অব.) ফারুক খানকে উত্তরের কমিটি সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে সম্মেলনের সাড়ে তিন বছরের মাথায় ২০১৬ সালে ১০ এপ্রিল প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মহানগর উত্তরে এ কে এম রহমত উল্লাহকে সভাপতি ও সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণে হাজী আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও মো. শাহে আলম মুরাদকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকার দুই অংশে কমিটি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরের ৪৯ থানা ও ১০৩ ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়। এ কমিটির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ভেঙে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুটি কমিটি হয়। তিন বছর মেয়াদি ঢাকা মহানগরের আওয়ামী লীগের দুই অংশের কমিটির মেয়াদ পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর