চট্টগ্রামে চেক প্রতারক চক্রের সদস্যের বাসা তল্লাশি করে বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ফটোকপি সহ বহু ভুয়া দলিল দস্তাবেজ উদ্ধার করেছে র্যাব। যেখানে ১ হাজার ২ কোটি ৬৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ৭৩টি চেকের ফটোকপি সহ রয়েছে ৩৫ লাখ ২০ হাজার টাকার ২১টি ফেব্রিকেটেড চেক।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন হামজা খাঁ লেনের গাউসিয়া আবাসিক এলাকার ১১১৭ নং ফাতেমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে চেক প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব।
পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪টি ব্যাংকের ফাঁকা চেক, ১৪টি ফাঁকা চেকের ফটোকপি, ২১৩ পৃষ্ঠা ফেক ইনডেনচার, ৩২ পৃষ্ঠা ফাঁকা স্ট্যাম্প, ৯টি লেজার বই, ১টি ডিপোজিট বই, প্রচুর মামলার নথি ও ৫টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, গাউসিয়া আবাসিক এলাকার ফাতেমা মঞ্জিলে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে আসামিরা।
এ সময় বি বাড়িয়ার আশুগঞ্জের আড়াইসিধা দক্ষিণপাড়ার আজিমুদ্দিন হাজি বাড়ির মো. শহিদুল ইসলাম খানের মেয়ে কাজী প্রিয়া মুক্তা (৪৪), রাজশাহীর বাগমারার রুঘুপাড়ার দক্ষিণ জামালপুরের মৃধা বাড়ির মোজাম্মেল হক মৃধার ছেলে মো. জহুরুল হক মৃধা (৪১) এবং মাদারীপুরের শিবচর থানার উত্তর বাঁশকান্দীর সেকান্দার আলীর ছেলে মো. রেজাউল করিমকে (৪৩) গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ব্যাংকের চেকের ফটোকপি, চেক ও অন্যান্য নথিপত্র জব্দ করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর পাঁচলাইশের নাজির পাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে নাজমা বেগম(৪৫) প্রিয়া আক্তার মুক্তা, জহিরুল ও রেজাউলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। নাজমা বেগম বলেন আসামি মুক্তা, জহিরুল ও রেজাউলের নেশা ও পেশা হচ্ছে প্রতারণা, ধোঁকাবাজি।
নানানভাবে মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা আত্মসাৎ করা হলো তাদের কাজ। ছোটখাটো লেনদেনের মাধ্যমে এলাকার সরলমনা নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে প্রথমে কম মূল্যমানের চেক হাতিয়ে নেন।পরে এসব চেক ফিরিয়ে দিয়ে বিশ্বাস গভীর করে সইযুক্ত অলিখিত চেক গ্রহণ করেন এবং চড়া সুদে টাকা ধার দেন।
নাজমা বেগমের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানে নামে র্যাব-৭ এবং প্রতারকদের আটক করে কোটি কোটি টাকার চেকের ফটোকপি সহ বিভিন্ন কাগজপত্র ও দলিল দস্তাবেজ উদ্ধার করে।
বার্তাবাজার/এম.কে