কয়েকযুগ ধরে বর্ষা মওসুমে পানিবন্দি অবস্থায় বসবাস করছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চর বানা গ্রামের শত শত মানুষ।প্রতিবছর বর্ষা মওসুম এলেই ঐ গ্রামের লোকজন বছরের প্রায় ছয় মাস ধরে পানি বন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।এবারও প্রায় তিন মাস যাবত পানি বন্দি হয়ে পড়েছে চর বানা গ্রামের মানুষ।

জানা যায়, মধুমতি নদীর নদীর তীর ঘেঁষে চর বানা গ্রামের অবস্থান।তাই একটু বৃষ্টি হলেই গ্রামের চারিদিকে পানি জমে একাকার হয়ে সাগরে রূপান্তর হয়।গ্রামের যেদিকে চোখ যায়,সব দিকে থই থই পানি।চারপাশে পানি, মাঝখানে বাড়ির ঘরগুলো দাঁড়িয়ে আছে।আবার এসব বাড়ির ভেতরে ও আঙিনায় পানি প্রবেশ করেছে।

গ্রামটিতে প্রবেশের প্রথমেই একটি ব্রিজ থাকলেও ব্রিজের দু’পাশের সংযোগ রাস্তাটি অতি নিঁচু হওয়ার কারনে সামান্য বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তাটি।তাই ব্রীজটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেসে যাওয়ার কারনে সড়কবিচ্ছিন্ন ওই ব্রীজটি অকেজো অবস্থায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে।
গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ওই গ্রামের মানুষ।গ্রাম থেকে অন্যত্র যোগাযোগের জন্য নৌকা ও কলাগাছের ভেলা ছাড়া আর কিছু নেই।যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ঐ গ্রামের মানুষদের বর্ষাকালে পানির সাথে যুদ্ধ করে জীবন ধারণ করতে হয়।
এদিকে এ জলাবদ্ধতায় বেকায়দায় পড়েছে স্বল্প আয়ের লোকজন।স্বচ্ছল পরিবারের লোকেরাও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারছেন না।এ নিয়ে তারা বেকায়দায় রয়েছেন।
গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি জানান, ‘ঘর থেকে বেড় হতে হলে নৌকা ছাড়া উপায় নেই।ছয় মাস ধরে আমরা পানিবন্দী।কোনো মতে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে আটঘাট বেঁধে রয়েছি।’
নজরুল শেখ নামের গ্রামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার কারণে আমরা কষ্টে আছি।যাতায়েতের খুব সমস্যা হয়। ‘
জাকারিয়া মল্লিক নামের গ্রামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘স্কুলগামী শিশু-কিশোররা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়।আমাদের এ রাস্তাটি আর একটু উঁচু করা হলে তাহলে সামান্য পানিতে রাস্তাটি তলিয়ে যেত না।’
সোহরাব সর্দার নামের এক কৃষক জানান, ‘বছরের প্রায় ছয় মাস ফসলী জমিতে পানি থাকে।তাই জমিতে ঠিকমতো ফসলও ফলাতে পারি না।’
ইউপি সদস্য তবিবর মল্লিক বার্তা বাজারকে বলেন,’বর্তমান সরকারের নিকট আমাদের প্রাণের দাবী গ্রামটির রাস্তা আরো উন্নতি করা হোক।’
এবিষয়ে বানা ইউপি চেয়ারম্যান হাদী হুমায়ুন কবির (বাবু) বার্তা বাজারকে জানান, ‘চর বানা গ্রাম সম্পর্কে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট জানানো হয়েছে।আশা করি খুব দ্রুত গ্রামটির রাস্তা আরো উন্নত করা হবে।’
বার্তাবাজার/কে.জে.পি