কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো : আবুল হোসেন। বাবা মৃত মো. আব্দুল হাই ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী শুনে এফ, এফ ভারত আগরতলা ট্রেনিং সেন্টার থেকে ২১ দিন ট্রেনিং নিয়ে ১৭-০৯-১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের অংশ গ্রহন করেন। কমান্ডার মতিউর রহমান এবং প্লাটন কমান্ডার জালাল উদ্দিনের অধীনের মুক্তিযোদ্ধা (এফএফ) হিসেবে সুনামগঞ্জ, মোগলগঞ্জ, সিলেট, ভোলা সহ বিভিন্ন স্হানে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ১১ ই নভেম্বর ভোলায় সন্মোখ যোদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর মর্টার সেল এর আঘাতে ডান পায়ের গুড়ালির উপরিভাগের আঘাত প্রাপ্ত হয়ে জ্ঞান হারায় আবুল হোসেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতিস্বরূপ ২ সেক্টরের কর্নেল খালেদ মোশারফ (কমান্ডো) কর্তৃক স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ গ্রহণ। ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম উঠে আসাসহ লাল মুক্তিবার্তায় আবুল হোসেনের নাম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা অর্ন্তভুক্তি হলেও উপজেলা পর্যায়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা গ্রেজেটভুক্ত হতে পারেননি তিনি। ফলে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির আক্ষেপ নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয় তাঁকে। তাই সরকার কর্তৃক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন আবুল হোসেনের পরিবার। স্বামীর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও ভাতা প্রাপ্তির জন্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমেপ্লক্স, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস, উপজেলা সমাজ সেবা, জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়েও যেতে হয়েছে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন কে। কোথাও কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে অসহায় ঘরহীন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি।
জানা যায়, আবুল হোসেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে প্রবেশের জন্য ২০০০ সালের ০২ ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বারাবর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেন। পরবর্তিতে ২০০২ সালের ১৫ ই জানুয়ারিতে যুদ্ধাহত অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আর্থিক সহযোতায় জন্য পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারাবর এবং ২০০৪ সালের ৩০ মার্চে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ভূক্তি ও সরকারী চিকিৎসার সুযোগ প্রাপ্তির জন্যে শহীদ যুদ্ধাহত ও পুর্নবাসন মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেন আবুল হোসেন।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমার স্বামী ৭১ সালে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী শুনে এফ, এফ ভারত আগরতলা ট্রেনিং সেন্টার থেকে ট্রেনিং নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অংশ গ্রহন করেন। কমান্ডার মতিউর রহমান এবং প্লাটন কমান্ডার জালাল উদ্দিনের অধীনের মুক্তিযোদ্ধা (এফএফ) হিসেবে সুনামগঞ্জ, মোগলগঞ্জ, সিলেট, ভোলা সহ বিভিন্ন স্হানে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে অংশগ্রহণ করেন ১১ ই নভেম্বর ভোলায় সন্মোখ যোদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর মর্টার সেল এর আঘাতে ডান পায়ের গুড়ালির উপরিভাগের আঘাত প্রাপ্ত হয়ে জ্ঞান হারায় আবুল হোসেন। সহযোদ্ধারা নিরাপদ স্হানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে কিছুটা সুস্হ হয়। স্বাধীনতার পর মুত্যুর দিন পর্যন্ত ভাল হয়নি ডান পা।
হতদরিদ্র কৃষক মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতিস্বরূপ ২ সেক্টরের কর্নেল খালেদ মোশারফ (কমান্ডো) কর্তৃক স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ গ্রহণ। ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম উঠে আসাসহ লাল মুক্তিবার্তায় আবুল হোসেনের নাম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা অর্ন্তভুক্তি হলেও সরকার কর্তৃক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত আমরা। আমার স্বামীর কোন জায়গা জমি নেই দুই মেয়ে এক ছেলেকে নিয়ে ছোট্র একটা দুচালা টিনের ঘরে বসবাস করি।
অভাব অনটনের জন্য ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া করাতে পাড়ি নাই। আমার স্বামীর নাম মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লাল মুক্তিবার্তায়ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আছে।যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাপ্রাপ্তির জন্যে উপজেলা থেকে জেলা এমনকি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় পর্যন্ত গিয়েছি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কিছুদিন আগে যাচাই বাচাই হলেও ঐ সময় কোন চিঠি পায়নি। এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। সরকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে অনেক সুযোগ সুবিধা দিলেও আমরা এসব থেকে বঞ্চিত আছি। পরিবার পরিজন নিয়ে খুব মানবেতর জীবন জাপন করছি।
এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের (সাবেক) ডেপুটি কমান্ডার (যুদ্ধকালীন কমান্ডার) আব্দুল মান্নান বলেন, ২০১৫ সালে আবুল হোসেনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন আমার সাথে সকল কাগজ পত্র নিয়ে যোগাযোগ করিলে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার জন্য আবেদন করতে সাহায্য করি এবং আবেদন গ্রহন করে যাচাই বাচইয়ের জন্য ডাকা হলে সময় মতো আসেনি। কিছুদিন আগে আবুল হোসেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি বলে সাবিনা ইয়াসমিন আমাকে আবার অবগত করেন। আমি এখন ঢাকায় আছি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় যোগাযোগ করে দেখব অসহায় পরিবারের জন্য কি করা যায়।
এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হাসান বলেন, আবুল হোসেনের নাম যুদ্ধাহত গেজেটভুক্ত না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের এ ব্যাপারে কিছু করার নেই। যুদ্ধাহত ঘরহীন মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন পরিবার বিষয়টি আমার জানা নেই। খুঁজ খবর নিয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা নিবে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি