বানিজ্যিক ভিত্তিক দেশি মুরগির খামারে শিক্ষিত বেকারদের আস্থা

উদ্যোক্তা বাজার রাজশাহী

রাশেদুল হক, শেরপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি: সুবর্ণা খাতুন অর্থনীতিতে মাস্টার্স শেষ করে চাকরী নামক সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে যখন হতাশার সাগরে ডুবতে বসেছিল ঠিক তখনি তার দিকে সহযোগিতার বাড়িয়ে দেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রায়হান। তার পৃষ্ঠপোষকতা, উৎসাহ ও সহযোগিতায় দেশীয় জাত সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ, নিরাপদ (অরগানিক) প্রানীজ আমিষের চাহিদা পুরন ও বেকার শিক্ষত যুবক/যুবতীদের প্রশিক্ষন দিয়ে কর্মসংস্থানের লক্ষে উপজেলার সর্বস্তরে গড়ে উঠেছে প্রায় ৩ শতাধীক ছোট, বড়, মাঝারী বানিজ্যিক ভিত্তিক দেশি মুরগির (অর্গানিক) খামার। যেখান থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ মেঃ টন অর্গানিক প্রাণীজ আমিষের যোগানের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে শতশত মানুষ, গুরত্বপুর্ণ অবদান রাখছে জাতীয় অর্থনীতিতে।

উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকার টোলার মাস্টার্স করা ইসরাফিল আলম ও ধড়মোকাম হাওয়াখানা এলাকার অনার্সের ছাত্র মো. জাকারিয়া জানান, আমরা এখন আর চাকরীর আশা করিনা। উপজেলার অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রায়হানের অনুপ্রেনায় আমরা এখন বানিজ্যিক ভিত্তিক দেশি মুরগির(অর্গানিক)খামার করে সফলতার মুখ দেখা শুরু করেছি।

এছাড়াও ডা. মো. রায়হান সরকারী রুটিন মাফিক কর্মে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, মানবিক গুনাবলি ছড়িয়ে দিয়েছে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার শত শত শিক্ষিত বেকারদের মাঝে। তার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠা বানিজ্যিক ভিত্তিক দেশি মুরগির(অর্গানিক) খামার দুর করছে দরিদ্রতা, অসচ্ছলতা ও বেকারত্ব। যুব সমাজ রক্ষা পাচ্ছে মাদক দ্রব্যের মরণ ছোবল থেকে। শিক্ষা জীবন শেষ করে বেকার থাকতে হচ্ছেনা শিক্ষিতদের, ছুটতে হচ্ছেনা সরকারী বেসরকারী চাকুরি নামের সোনার হরিণের পিছনে, নিজেরাই বনে যাচ্ছেন উদ্যোক্তা।

এ ব্যাপারে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রায়হান বলেন, আমি ৩১ তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ৬২ তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে ২য় স্থান অধিকার করি। তারপর ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় ২০১৩ সালে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে যোগদান করেই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে ভাল কিছু করার জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগ করি।

২০১৪ সালে শেরপুরে যোগদান করে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতিদের প্রশিক্ষন দিয়ে তাদের উদোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। শেরপুরে এখন প্রায় ৩০০ জন উদ্যোক্তা। এছাড়াও আমার এমন কাজের প্রতিবেদন দীপ্ত কৃষি নিউজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ১৫০ জন যুবক যুবতীকে আমি প্রতি শুক্রবার ও শনিবার উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষন দিয়ে যাচ্ছি।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন ডা. মো. রায়হান একজন কর্মতৎপর ও দক্ষ কর্মকর্তা। তার বানিজ্যিক ভিত্তিক দেশি মুরগির(অর্গানিক) খামার এখন সারাদেশে বিস্তৃতি লাভ করেছে এবং তার কাজ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

বগুড়া ৫ শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমান বলেন, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রায়হান একজন ডায়নামিক অফিসার তিনি শেরপুর ধুনট এলাকায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বিপ্লব ঘটিয়েছে।