লালমোহনে প্রার্থীও ভোট দিতে পারেননি

ভোলার লালমোহন পৌরসভার নির্বাচনে ইভিএম বিড়ম্বনার কারণে ভোট দিতে পারেননি একটি ওয়ার্ডের অনেক ভোটার। এমনকি কাউন্সিলর প্রার্থীও ভোট দিতে পারেননি।

টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কারো অঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ করেনি ইভিএম মেশিন। কারো ছবি প্রদর্শন হয়নি। এ ছাড়া স্মার্ট কার্ড প্রবেশ করালে তাও কাজ করেনি। এ অবস্থায় ভোট দিতে না পেরে অনেক ভোটার বাড়ি চলে গেছে। প্রায় ১ ঘণ্টা ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে।

৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মনজু পাটোয়ারী নিজেই এ সমস্যার কারণে ভোট দিতে পারেননি বলে তিনি জানিয়েছেন। ভোট দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ওই ওয়ার্ডের কামরুল ইসলাম, রিমা বেগম, নুর মহিউদ্দিন, সামছুল আলম, মোতালেব, আবুল কালামসহ অনেকে।

তবে জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার আলাউদ্দিন আল মামুন জানান, কিছু কিছু কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ গিয়ে দ্রুত তা ঠিক করে দিয়েছে। এতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পরেনি।

এদিকে নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে অবৈধভাবে চলাচল করায় ৪ জনকে আটক করেছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরে তাদের লালমোহন থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কায়সার হোসেন ও খালেদা খাতুন রেখা। তবে কোথাও কোনো সংর্ঘষের খবর পাওয়া যায়নি। প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে লালমোহন পৌরসভার সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়ায় ভোটগ্রহণ চলে ৫টা পর্যন্ত।

সকাল থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় দেখা গেছে। ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন পৌরসভার নির্বাচনে মোট ৬২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের (নৌকা) এমদাদুল ইসলাম তুহিন ও বিএনপির (ধানের শীষ) সোহেল মো. আজীজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

একই সঙ্গে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন ও ১৩ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে লড়াই করেন। লালমোহন পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা সংখ্যা ১৯ হাজার ১০০ জন। যাদের মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৭০৩ জন এবং নারী ৯ হাজার ৯৯৭ জন।

এদিকে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষে জেলা নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে থেকে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়। এর মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও কেন্দ্রভিত্তিক পুলিশ কাজ করে।

একই সঙ্গে ২ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাবের ২টি টিম নিয়মিত টহলে নিয়জিত ছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন আনসার ও ৮ জন করে পুলিশ প্রস্তুত ছিল। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লালমোহন পৌরসভার মেয়াদ শেষ হয়। পরে মামলা জটিলতার কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এটি লালমোহন পৌরসভার চতুর্থ নির্বাচন।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর