২২ বছর যাবৎ ভ্রাম্যমান টেইলারী করে চলছে চিত্তরঞ্জনের সংসার

ফিচার রাজশাহী

রাশেদুল হক, শেরপুর (বগুড়া): জীবনের তাগিদে কত মানুষ কত কিছুইনা করে। কেউ চাকরী, কেউ ব্যবসা, কেউ রিক্সা/ভ্যান চালায়, কেউ আবার করে কুলিগীরি। কিন্তু বগুড়ার শেরপুরে ২২ বছর যাবৎ এখানে ওখানে ঘুরে কারিগরি শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ‘পরী বস্ত্র বিতান ও টেইলার্স’ নামে ভ্রাম্যমান টেইলার্স দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন চিত্ত রঞ্জন সরকার।

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা গ্রামের নবকৃষ্ণ সরকারের ছেলে চিত্ত রঞ্জন সরকার। শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার, জনবহুল রাস্তার মোড়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর ও বিভিন্ন ক্লিনিক এলাকা ঘুরে কাপড় বিক্রি করেন এবং তা নিজেই তৈরি করে ডেলিভারি দেন। তার কাছে কম দাম বা বেশী দাম সব রকমেরই শার্ট পিস ও প্যান্ট পিস রয়েছে।

৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ চিত্ত রঞ্জনের কাছ থেকে শার্ট পিস কিনছে। চিত্ত রঞ্জন ওখানেই গ্রাহকের শরীরের মাপ নিচ্ছে এবং রিসিভ কেটে দিচ্ছে। অর্ডারকৃত কাপড় বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তৈরি করে ৩ থেকে ৪ দিন পর ওই এলাকাতে গিয়ে গ্রাহকের হাতে পৌছে দিচ্ছে।

চিত্ত রঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনুস আলী প্রামাণিক নামের এক গ্রাহক জানান, আমরা মাঝে মধ্যেই তার কাছ থেকে শার্ট প্যান্ট বানিয়ে নিই। তার কাছে কমদাম বেশীদাম সব ধরনের কাপড়ই রয়েছে। কাপড়ের দাম ভেদে সে আমাদের কাছ থেকে মজুরি নিয়ে থাকে। যেমন ৪’শ টাকার কাপড় হলে সর্বমোট খরচ হয় ৫’শ টাকা।

এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমান দর্জি চিত্ত রঞ্জন বলেন, আমি ২২ বছর যাবৎ শেরপুরে এই ব্যবসা করে আসছি। দিনে ১০ থেকে ১৫ পিস কাপড়ের অর্ডার পাই। এই এলাকার সবাই আমার কাজ পছন্দ করে এবং ভালবাসে তাই এতোদিন যাবৎ কাজ করতে পারছি। এই কাজ করেই আমি আমার ৫ বছরের মেয়ে পরীর লেখাপড়া সহ সংসারের যাবতীয় খরচ চালিয়ে আসছি। সকলের সহযোগিতা ও ভালবাসা পেলে সারা জীবন এ কাজ করে যেতে চাই।