কুবি বহিরঙ্গনের নিরাপত্তা মাত্র ৭টি সিসি ক্যামেরায়

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় অপরাধ দমন ও অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।

সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধীদের সহজে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা আসম্ভব হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামরার গুরুত্ব থাকলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও আবাসিক হলগুলোতে নামে মাত্র কয়েকটি ক্যামেরা রয়েছে। ২২ টি ক্যামরার শুধু ৭টি আছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তায়। বাকি ১৫ ক্যামেরাই রয়েছে বিভিন্ন সেমিনার কক্ষ, ভিসি বাসভবন, পরিবহন পুলসহ বিভিন্ন স্থানে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে চলমান ক্যামেরাগুলোর অধিকাংশ ক্যামেরইি ত্রুটিপূর্ণ ও অকেজ। এর মধ্যে একটি মেশিন নষ্ট হওয়ায় গত এক মাসেরও অধিক সময় যাবত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যামেরা গুলো বিকল হয়ে আছে।

ক্যাম্পস ঘূরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবনসমূহ, আবাসিক হলগুলোর প্রবেশপথ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য সংলগ্ন কয়েকটি সিসি ক্যামরা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, শহীদ মিনার, একাডেমিক ভবনের করিডোর ও শিক্ষার্থীদের চারটি আবাসিক হলের করিডোরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেই কোন সিসি ক্যামেরা। উপরন্তু কিছু কিছু স্থানে স্থাপিত ক্যামরাগুলো মাসের পর মাস বিকল হয়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে এ ক্যামেরার ফুটেজ দেখভালের জন্য নেই কোন পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বরত ব্যক্তি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা না থাকায় প্রতিনিয়তই বাড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-। বহিরাগতদের অনাগোনা বেড়েই চলছে, চলছে মাদকে আড্ডা। গেল কয়েক মাস আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মাদকসেবীদের মাদক সেবনের একটি ভিডিও এক শিক্ষার্থী মুঠোফোনে ধারণ করেন। তবে প্রশাসনের উদাসীনতা ও সিসি টিভি ফুটেজ না থাকায় তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে অনেক সময় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শহীদ মিনারে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমাদের হলে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামরা নেই। যেটা আমাদের নিরাপত্তার জন্য খুবই জরুরি। যা লাইব্রেরী ও হলে চুরি, মাদকের মত ঘটনায় অপরাধীদের চিহ্নিত সম্ভব হবে। বিশ্বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগালে বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটাই নিরাপদ হবে।

সিসি ক্যামেরার গুরুত্বের কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন সময়ের আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা জন্য সিসি ক্যামেরার প্রয়জনীয়তার হারে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তবে আমরা(প্রক্টরিয়াল বডি) সিসি টিভির ফুটেজ প্রয়োজন সাপেক্ষে দেখতে পারি কিনা আমাদের একক কোন তদারতি নেই।

সিসি ক্যামেরার বিষয়ে বিশ্বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.এমরান কবির চৌধুরী বলেন, আমরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বার্থে অতি শ্রীঘ্রই ক্যামেরা সংখ্যা বৃদ্ধি ও ত্রুটিপূণ ক্যামেরা গুলোকে সরিয়ে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর