রামগঞ্জে সংস্কার প্রকল্পের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার রামগঞ্জ রাব্বানীয় কামিল মাদ্রাসা ও সাউধেরখিল উচ্চ বিদ্যালয়সহ ২টি আশ্রয়ন প্রকল্প ভবনের সংস্কার কাজে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গত ১২মার্চ ২০১৯ইং তারিখে ১৯ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮৩০ টাক বরাদ্ধ দেয়। এরই পেক্ষিতে রামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন ভুইয়া

দরপত্র দেখিয়ে ওই সংস্কার প্রকল্পের টাকা কাজ না করে গোপনে আত্নসাত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আকবর আলী বরাদ্ধকৃত টাকা উদ্ধারের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ও ত্রান মন্ত্রালয় এবং দুদকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহানকে আত্নসাতকৃত টাকার বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্রে জানায়,দুযোর্গ ব্যবস্থাপনায় ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রামগঞ্জ রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসা আশ্রয় কেন্দ্র সংস্কারে ৯ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬শত ৬ টাকা এং সাউদেরখিল উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র সংস্কারে ৯ লক্ষ,৮০ হাজার,২শত ২৪ টাকা বরাদ্ধ দেয়। কিন্তু রামগঞ্জ উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোশাররফ হোসেন সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে লক্ষ্মীপুর সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে ২০১৯ জুন ক্লোজিং এর মধ্যে কাজ সম্পুর্ন দেখিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া দরপত্র ও বিল তৈরি করে বরাদ্ধের পুরো টাকা ট্রেজারী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাত করে।

এ ব্যাপারে আকবর আলী নামের এক ঠিকাদার দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা এং দুদকের মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেওয়ায় হয়। এব্যাপারে জানতে চাইলে রাব্বানীয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এ.এস.এম মোস্তাক আহমেদ বলেন,সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে পিআইও অফিসে যোগাযোগ করলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রথমে স্বীকার না হলেও পরে স্বীকার হয়ে সংস্কার কাজ করতে আমাদেরকে ৩লক্ষ টাকা প্রদান করেন। বাকি টাকা পিআইও আস্তে আস্তে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন,দুর্যোগ মন্ত্রনালয়,দুদক সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ দায়ের করার সংবাদ জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মাধ্যমে কাজ শেষ করতে করতে নগদ টাকা প্রদান করেছি। কাজ শেষ করলে বাকী টাকা পরিশোধ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান জানান, জুন ক্লোজিংয়ের কারনে সময় কম থাকায় দুটি আশ্রয়ন প্রকল্পের সংস্কারের টাকা ফেরত যাওয়ার কারনে টাকা উত্তোলন করে রাখা হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে কাজ শেষ করে টাকা প্রদান করা হবে। সরকারী টাকা আত্বসাত করার কোন সুযোগ নাই।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর