রহস্যময় সুন্দর ফিংগালস গুহা!

ফিচার

ফিংগালস গুহা! স্কটল্যান্ডের অদূরে উত্তাল সমুদ্রে স্টাফা দ্বীপপুঞ্জে এর অবস্থান। কোন জনবসতি নেই এই দ্বীপে।সমূদ্রে যাতায়াতকারী নাবিকরা তাকে দেখছে প্রায় হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে। এক সময় ‘সমুদ্র নেকড়ে’ ভাইকিংরা এ দ্বীপের নাম রেখেছিল ‘ফিংগালস কেভ’ বা ফিংগালস গুহা।

অসংখ্য খিলান নিয়ে প্রকৃতির মাঝে তৈরি হয়েছে রহস্যময় এ গুহার । ভূতত্ত্ববিদরা মনে করেন যে, আজ থেকে প্রায় ছয় কোটি বছর আগে লাভা থেকে এ গুহার সৃষ্টি। এর গলিত পাথর খড়িমাটির ওপর দিয়ে যাওয়ায় গুহাটি এ বিশেষ আকৃতি পায়।

অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ডের ‘জায়ান্টস কজওয়ে’ গুহার সঙ্গেও ফিংগালসের আশ্চর্য মিল রয়েছে। যদিও ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এদের মধ্যে মিল নাকি আপতিক নয়। তবে তাদের ধারণা, এ দুই প্রাকৃতিক বিস্ময়ের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। তারা মনে করেন, একই লাভাস্রোত থেকে এ দুই গুহার সৃষ্টি হয়। এমনকি দুটি গুহার সঙ্গে সংযোগ ছিল বলেও উপকথা রয়েছে। পরে নাকি সংযোগ পথ ধ্বংস হয়ে যায়।

উনিশ শতকের জার্মান ধ্রুপদী সঙ্গীত রচয়িতা ফেলিক্স মেন্ডেলসন এই গুহাকে নিয়ে রচনা করেছিলেন বিখ্যাত কম্পোজিন ‘হেব্রিড’স ওভারচার’। যা তিনি ফিংগালস গুহা’র রহস্যময় শব্দকে কল্পনা করে রচনা করেছিলেন। অবশ্য এখন দিন পাল্টেছে। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় অনেক প্রাকৃতিক রহস্যের সমাধান মিলেছে। হাতে এসেছে অন্ধকার আর আতঙ্ককে দূর করার আধুনিক প্রযুক্তি। তারই সুবাদে স্থানটিতে এখন পর্যটকেরা ভীড় জমান। যে দ্বীপ একসময় ভয়ঙ্কর জলদস্যুরাও এড়িয়ে চলতো, সেখানে এখন মানুষের সমাগম ঘটে।
বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দর্শণার্থীরা গুহাটিতে ভ্রমণ করে থাকেন। গুহাটি ভ্রমনের সুবিধার্থে বেশ কিছু সংস্থা ইয়ট ভাড়া দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি গুহাটি ঘুরে দেখতেও গাইডের ব্যবস্থা করে থাকে। ফলে পায়ে হেঁটে গুহাটি ঘুরে দেখারও সুযোগ হয় পর্যটকদের।

অবশ্য সে সবই দিনের বেলা। রাতে আদিম সেই রহস্য নিয়েই সাগরের বুকে মাথা জাগিয়ে থাকে ‘ফিংগালস কেভ’ বা ফিংগালস গুহা।