বগুড়ার শেরপুরের বিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, দুর্বল মনিটরিং ও পরিচালনা কমিটির সুদৃষ্টি না থাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।
এছাড়াও স্কুল মাঠে হাটবসার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও বিনোদন থেকে বিরত হওয়ায় মানষিক বিকাশে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার পাশাপাশি লেখাপড়ার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলকের পাশাপাশি প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও শেরপুর উপজেলার বিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার চিত্র ভিন্ন। স্কুল মাঠে সপ্তাহে ২দিন হাট বসলেও ৫/৬দিন ওই মাঠে বাঁশ রাখায় শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারে না।
এদিকে স্কুলে পাঁচ জন শিক্ষকের মধ্যে চার জনই নারী শিক্ষক। তারা আবার কোলের সন্তান নিয়ে স্কুলে আসেন। কিন্তু ক্লাসরুমে ক্লাস নিতে গিয়ে ওই সন্তানকে ছাত্র/ছাত্রীদের নিকট খেলতে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা শিশু সন্তানকে নিয়ে খেলায় মেতে থাকেন ক্লাস রুমে। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যহত হচ্ছে। আবার শিক্ষকরা স্কুল সময় শেষ হওয়ার আগেই স্কুল ছুটি দিয়ে বাড়ি যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষকদের এমন কার্যকলাপে শিক্ষার্থীরা একদিকে লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে, পাশাপাশি ঝরে পড়ায় দিন দিন স্কুলের উপস্থিতি কমে আসছে। বিদ্যালয় পরিচালনার কমিটি থাকলেও বিদ্যালয়টির লেখাপড়ার মান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতকরণে তারা তেমন কার্যকরি ভূমিকা নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষার মানের পাশাপাশি স্কুলের নামে জায়াগাও অনেকে দখল করে ভোগ করছেন।
এছাড়াও স্কুল মাঠে হাট বসায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এবং স্কুল চলাকালিন সময় মাঠের মধ্যে বাজারের বাঁশ রাখা হয় সেখানে খোলাধুলা করতে পারেনা শিক্ষার্থীরা। ফলে দিন দিন বিনোদন থেকে বি ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অনেকেই বলছে বাঁশগুলো স্কুল মাঠের মধ্যে রাখায় যে কোন সময় বড়ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রধান শিক্ষক শেফালী খাতুন স্কুলের জায়গা সভাপতি দখল করার কথা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষকদের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিনা খাতুন জানান, আমি এসকল বিষয়ে জানিনা এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিষয়টি দুঃখজনক। বিদ্যালয়গুলোতে দুর্বল মনিটরিং এর কারণে এমন হয়েছে বলে বিষয়টি স্বীকার করেন।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস