কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় রানু বেগম (৩৩) নামে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে ভৈরবের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে এঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ ডাক্তারের ভুলের কারনেই রোগীর মৃত্যু ঘটেছে।
নিহত রানু বেগম নরসিংদি জেলার রায়পুরা উপজেলার মানিকনগর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী। নিহতের পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে মাত্র এক লাখ টাকায় এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে গর্ভবতী রানু বেগমকে তার স্বজনরা ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকার মা ও শিশু হাসপাতালে সিজারের জন্য ভর্তি করেন। পরে এদিন দুপুরেই সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন রানু বেগম। অপারেশনের পর মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ-স্বাভাবিক ছিলেন।
পরবর্তীতে দুইদিন পর আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ মা রানু বেগমের কিছুটা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে এনেসথিসিয়া ডাঃ রাজীবের নির্দেশে হাসপাতালের নার্স মোমেনা বেগম রোগীকে করসন ও লেসিস নামের দুটি ইনজেকন দেয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয়।
কিন্তু রোগী জীবিত আছে জানিয়ে তড়িঘড়ি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনরকম কাগজপত্র বা ছাড়পত্র ছাড়াই এম্বোলেন্সে করে মৃত রানু বেগমকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। bপরে নরসিংদীর রায়পুরার নীলকুঠি এলাকায় রোগীর স্বজনরা এম্বোলেন্সটি আটক করে রোগীকে মৃত অবস্থায় পায়।
এসময় এ্যাম্বোলেন্স চালক গাড়ি রেখেই পালিয়ে যান। পরে নিহতের স্বজনরা লাশ নিয়ে হাসপাতালে ফেরৎ আসলে হাসপাতালের ডাক্তাররা পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে রোগী শ্বাসকষ্টজনিত কারনে মারা গেছেল বলে দাবী করেন। এঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ও পুলিশ প্রশাসন হাসপাতালে উপস্থিত হলে ডাক্তারগণ সবাই পালিয়ে যান।
এবিষয়ে ইনজেকশন প্রদানকারী নার্স মোমেনা বেগম নিজের কোন রকম নার্সিং ট্রেনিং সার্টিফিকেট নেই এবং তিনি অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।
এদিকে খোজ নিয়ে জানা যায়, নিহতের পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে নগদ এক লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছেন নিহতের পরিবার। নিহতের এক নিকটবর্তী আত্মীয় এ তথ্য নিশ্চিৎ করেছেন।
ঘটনার পর পর হাসপাতাল মালিক ও প্রধান ডাঃ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও মোঃ বুলবুল আহমেদ পালিয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপার দেওয়ার বিষয়ে জানতে ডাঃ বুলবুল আহমেদের মুঠোফোনে একাধীকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
বার্তাবাজার/কেএ/ডব্লিওএস