চট্রগ্রামের মাছ বাজারে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দ্বারা জিইয়ে রেখে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
শনিবার (১২ অক্টোবর) বিকাল চারটায় চট্টগ্রামের ঐতিবাহী কাঁচামাল ও মাছ মাংসের বাজার চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীবিত পুকুরের রুই, কাতলা, চিড়িং, শিং মাছ ও মাগুর মাছ বিক্রি হচ্ছে।
কর্ণফুলী মাছ বাজারে সারিবদ্ধভাবে থাকা মাছের দোকানগুলোতে রয়েছে নানান প্রজাতির মাছ। কোন দোকানে মরা মাছ আছে তো কোন কোন দোকানে রয়েছে জীবন্ত রুই, কাতলা, শিং মাছ, মাগুরমাছ, চিড়িং মাছ। যা মাঝারি ও বড় সাইজের পানির গামলায় রাখা হয়েছে।
দোকানীরা ক্রেতাদের তাজা মাছ, জিন্দা মাছ বলে বলে আকৃষ্ট করছে। যা দেখে দুই দোকান পর আরেক দোকানের মাছ বিক্রেতার নিকট রুই মাছের দাম জানতে চাইলে তিনি মরা মাছের দাম বলেন ৩৫০ টাকা কেজি। তখন তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, সামনের দোকানে তো জীবন্ত রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি। আপনারটা বেশি কেন? উত্তরে মাছ বিক্রেতা বলেন, ‘সেই মাছগুলো অক্সিজেন(বিক্রেতার ভাষায়) নামক বিশেষ ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দিয়ে জিইয়ে রাখা হয়েছে। পুকুরের মাছ কখনো এত বেশি সময় বেঁচে থাকেনা। এই মাছগুলো খেলে শরীরে নানান রোগ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা দেখা দেয়।’
ব্যক্তিটির কথার সত্যতা যাচায়ে উক্ত মাছ বাজারেই মাছ কুটার কাজে নিয়োজিত বিশ্বস্ত ও সুপরিচিত এক ব্যক্তির সাথে একান্তে আলাপচারিতায় জানা যায় যে, জীবন্ত রুই মাছগুলোতে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য। তাদের ভাষায় মাছ জিইয়ে রাখা কেমিক্যালের নাম অক্সিজেন। তাই মাছ কুটার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি উক্ত জীবন্ত মাছ না কেনার পরামর্শ দেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন যে, শুধু রুই মাছ নয় এভাবে বিশেষ উপায় উপাদান ব্যবহার করে চিড়িং মাছ, শিং মাছ, কৈ মাছ ও মাগুর মাছ সহ জিইয়ে রেখে ক্রেতাদের ঠকানো হয়। এছাড়া বড় চিংড়ি মাছে রয়েছে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল জেলি। যা সাতক্ষীরা জেলা হতেই ইনজেকশন সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাছে ঢুকানো হয়।
এ ব্যাপারে প্রশাসনের দায়িত্ব ও ভুমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ হতে এরকম ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মিশ্রিত মাছ বিরোধী অভিযানে বেশ কয়েকবার ম্যাজিস্ট্রেট অনেককে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা করলেও। কিছু অসাধু কারবারি ও দালাল চক্রের সহায়তায় অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। ফলে এখনও অবাধে চলছে এমন লোক ঠকানো মাছ কারবার ও ক্ষতিকর মাছ বিক্রি।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস