সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ঘুষের টাকা ভাগ করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে আব্দুর রাজ্জাক নিহতের মামলায় দৌলতপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানাকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক পিতা আবদুস সামাদ বাদী হয়ে থানায় ১০ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলায় তালিকাভুক্ত আসামি দৌলতপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানাকে আটক করে পুলিশ।
বেলকুচি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, আমরা আব্দুর রাজ্জাকের হত্যা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানাকে আটক করেছি। বাকী আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। আমরা আশা করছি খুব শীগ্রই তালিকাভুক্ত আসামীসহ এর সাথে যারা যুক্ত তাদেরকেও আটক করা হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বেলকুচির ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের সাতলাঠি আকন্দ পাড়ার ওমর আলী মাস্টারের অনার্স পড়ূয়া ছেলে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়। বিয়ের জন্য মেয়েটি কয়েকদিন আগে দু’বার ছেলেটির বাড়ি গিয়ে ওঠে মেয়েটি।
স্থানীয় মুরব্বিরা এ নিয়ে কয়েক দফা সালিশে বসেন। কিন্তু ছেলে পক্ষ হাজির না হওয়ায় কোনো সমাধান হয়নি। তবে বেলকুচি থানার এস আই শামীম রেজা ও এএসআই ওবায়দুল ছেলেটিকে সামাজিক দরবারে হাজির করার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা তা করতে পারেননি।
পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানা, ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা খোরশেদ আলম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াহাব আলী, খায়রুল বারীসহ এলাকার বেশ ক’জন মুরুব্বি ধুকুরিয়াবেড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সালিশে বসেন। তাদের সঙ্গে রাজ্জাকও ছিলেন। বৈঠকে ছেলে পক্ষ হাজির না হলেও দু’জনের আগামীতে বিয়ে হবে মর্মে মুরব্বিরা অবৈধভাবে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করেন।
এ সময় তারা মেয়ে পক্ষ থেকে ৪০ হাজার টাকা আর্থিক সুবিধা নেন। সেই টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অধ্যক্ষ মাসুদ রানার কক্ষে হাফিজুল, হানিফ, ফরিদুল, শাহ আলম, আইয়ুব আলী, কাশেমসহ বেশ কয়েকজন রাজ্জাককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তিনি খাজা ইউসুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তবরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস