কর্ণফুলী নদীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নগরের ফিরিঙ্গিবাজারে কর্ণফুলী ঘাটে চ্যানেল আইয়ের ২১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ কর্ণফুলী নদীর বর্তমান দূরাবস্থা ব্যক্তপূর্বক পরবর্তীতে কর্ণফুলী নদী রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, সব কাজে সরকারের অপেক্ষায় বসে থাকলে হবেনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশে থাকছে, রিজার্ভ বেড়েছে, বেড়েছে কর্মসংস্থান সহ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এর সঙ্গে যদি আমাদের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে না পারি তাহলে এসব অর্জন বৃথা যাবে।
কর্ণফুলীর বিষয়ে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রাম বন্দর অতি প্রাচীন ও বিশেষ একটি সমুদ্র বন্দর। আর কর্ণফুলী নদী বন্দরের ব্যবহারের বিষয় আছে।
তাই বন্দর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নদী রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করুন। কর্ণফুলীর যেটুকু ক্ষতি হওয়ার হয়েছে। একে আর বাড়তে দেয়া যাবেনা। দরকার হলে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বসে কর্ণফুলী রক্ষার বিষয়ে আলোচনা করুন।
কর্ণফুলী হতে বালি উত্তোলন, নদীর পাড়ে গড়ে উঠা শিল্প কারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা, লাইটারেজ জাহাজের পার্কিং, অবৈধ দখলদার সহ নানান সমস্যার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী কর্ণফুলী রক্ষার্থে বন্দরকে দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেছেন।
ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা কথা বলেছেন। বালু উত্তোলন, নদীর দুই ধারে গড়ে ওঠা শিল্প কারখানা সড়ানো ও শিল্প কারখানার বর্জ্য ফেলা বন্ধকরণ সহ যত্রতত্র লাইটারেজ জাহাজের পার্কিং বন্ধ করতে বলেছেন।
তিনি বলেন কর্ণফুলী নদীর পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অবহেলা করা যাবেনা। এটা আমাদের প্রাণ, আমাদের অহঙ্কার। ভূমিমন্ত্রী বলেন, নিন্মচাপ, ঘূর্ণিঝড় বা বিশেষ প্রয়োজনে জাহাজ নদীতে আসতে পারে। তবে এ নদী পার্কিংয়ের জায়গা নয়।
যত্রতত্র পার্কিংয়ের দরুন নেভিগেশনে সমস্যা, সিলট্রেশন সহ হচ্ছে নদী দূষণ। বন্দর চেয়ারম্যানকে বিষয়টি কড়াভাবে দেখতে হবে বলে প্রয়োজনে কোস্টগার্ডের সহযোগিতা নিতে বলেন।
পলিথিনের কারণে কর্ণফুলীতে ড্রেজার মেশিন অকার্যকর হয়ে যাওয়ার ছবি দেখিয়ে মন্ত্রী বলেন, পলিথিনের যদি এই অবস্থা হয়। তাহলে নদীর অবস্থা কতটা খারাপ হতে পারে। পলিথিন ফেলা বন্ধে জনসচেতনতা পাশাপাশি সমন্বয়ের অভাব আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গে সবাই কথা বলে ধাপে ধাপে কাজ করলে সময় বাঁচবে, টাকা বাঁচবে।
সিটি করপোরেশন বলেন সিডিএ বলেন সবাই কিন্তু সরকারের টাকা খরচ করছে। আলটিমেটলি জনগণের টাকা যাচ্ছে। প্রপার সমন্বয় থাকলে শুধু কর্ণফুলী নয়, সাসটেইনেবল সিটি হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তুলতে পারবো।
কর্ণফুলী নদী রক্ষায় ড্রেজিংসহ যা যা করা দরকার তা করার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবেন বলে জানান মন্ত্রী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, কর্ণফুলী আমাদের অস্তিত্ব। কর্ণফুলীকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে।
কর্ণফুলী নদী কেন, কী কারণে, কী জন্য দূষণ হচ্ছে এটি কমবেশি সবাই জানি। সবাই বুঝি। সবাই যার যার অবস্থান থেকে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করলে দখল-দূষণ থেকে নদী রক্ষা পাবে।
গোলটেবিল আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি ও সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন, বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি এমএ সালাম, দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এমএ মালেক।
আরো উপস্থিত ছিলেন, হালদা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া, কর্ণফুলী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, আইবিএফবি’র সভাপতি এসএম আবু তৈয়ব, স্থপতি আশিক ইমরান, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব,কর্ণফুলী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোক্তা আলীউর রাহমান, চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান চৌধুরী ফরিদ সহ প্রমুখ।
বার্তাবাজার/কেএ