হলে নেই পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা, নিরাপত্তাহীনতায় ইবি শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হল গুলোতে নেই পর্যাপ্ত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ফলে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

১১ অক্টোবর বিকাল চারটা,শহীদ জিয়াউর রহমান হলের মূল গেটে সাইকেল যোগে কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া ছেলে এসে নামলো এরপরে তারা কোনোরকম অনুমতির তোয়াক্কা না করে হলের ভেতরে ঢুকে পড়লো। পিছু নিয়ে দেখা গেল,গেস্টরুমে ইন্টারনেট ব্যবহার তাদের উদ্দেশ্য। কথা বলে জানা গেলো,তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন শেখপাড়া থেকে এসেছে,ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য তারা প্রায়শই এখানে আসে এমনটাও জানায় তারা।

এছাড়া হলগুলোর সামনে একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় ভ্যানওয়ালা, হকাররা অবাধে ঢুকে পড়ছেন হলের ভেতরে।শুধু জিয়া হলেই নয়, বিনা বাধায় বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের এমন চিত্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি হলে।কে কখন কোথায় যাচ্ছে তার ওপর নেই সামান্য নিয়ন্ত্রণ নজরদারি আর এই সুযোগে ঘটছে চুরির মতো ঘটনা।

শিক্ষার্থীদের শঙ্কা বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে।হলে কোনো ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে সিসি ক্যামেরা দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন অবস্থাও নেই। তারা ভীতসন্ত্রস্ত বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষার্থী।এ সমস্যা প্রতিরোধ ও প্রতিকারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশাসন ভবন এবং অনুষদ গুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা থাকলেও এগুলো কতোখানি সচল আর কার্যকর এবিষয়ে সন্দিহান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে আবাসিক হল গুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নতুন পুরাতন ৫টি ছাত্র হলের দু’ একটিতে সিসি ক্যামেরা থাকলেও অধিকাংশ হল অরক্ষিত। এমনকি যেসব হলে সিসি ক্যামেরা আছে সেসব হলের সবগুলো ব্লক সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে অপরাধীর পার পেয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে ছাত্রী হল গুলোতেও নেই পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ৩টি ছাত্রী হলে প্রায় কয়েক হাজার ছাত্রীর বসবাস তবে হলগেট আর নিচতলা ছাড়া এসব হলের কোথাও সিসি ক্যামেরা নেই বলে জানা গেছে। ফলে অরক্ষিত এসব হলে চুরির ঘটনা দৈনন্দিন ব্যাপার বলে জানিয়েছেন একাধিক ছাত্রী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান,বিভিন্ন সময় বাইরে থেকে চোর,টোকাই ঢুকে পরার ঘটনা রয়েছে।
এছাড়া ছাত্রী হল এলাকায় প্রায় প্রতিদিন স্থানীয়দের দ্রতগতির মোটরবাইক ছোটানো,ছাত্রীদের প্রতি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির খবরও শোনা যায় মাঝেমধ্যে।
হল এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত না থাকায় তারা উদ্বিগ্ন।

প্রগতিশীল শিক্ষকদের মতে, সমস্যা বলে কয়ে আসে না। হলের কিছু জায়গা সিসি ক্যামেরা ভুক্ত থাকলেও বাকি জায়গাগুলোতে দূর্ঘটনা ঘটলে এর তথ্য প্রমাণাদি কিছুই পাওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধানের জন্য অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তারা।

এবিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিল সভাপতি এবং জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোঃ আকরাম হোসেন মজুমদার এ বার্তাবাজার’কে বলেন,আমার সরাসরি নির্দেশ দেয়া রয়েছে হলের ভেতর বহিরাগত ঢোকা সম্পূর্ণ নিষেধ। এছাড়া হল গেটসহ প্রতিটি ফ্লোরে সিঁড়ির পাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের চিন্তাভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন পরবর্তী প্রভোস্ট কাউন্সিলের মিটিংয়ে এ নিয়ে আলোচনা করবো।

এবিষয়ে প্রক্টরের দায়িত্ব প্রাপ্ত অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্মন বার্তাবাজার’কে বলেন,আমি খুব অল্পদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি তবে হল গুলোকে নির্দেশ দেয়া আছে প্রত্যেক প্রভোস্ট নিজের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা করবে। এছাড়া পরবর্তী মিটিংয়ে সিসি ক্যামেরার বিষয়ে তাদের নির্দেশনা দেয়া হবে।পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবে আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের যেকোন জায়গাতে নিজের বাড়ির মতো সুষ্ঠু নিরাপদ মনে করতে পারবে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর